ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
তাজা খবর
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
টঙ্গীতে স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০৮ সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ
রাজস্ব আদায় বাড়াতে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের নির্দেশনা
সক্রিয় দালালচক্র ॥ চিকিৎসা বঞ্চিত রোগীর সাথে স্বজনদের ভোগান্তি চরমে
অবৈধ তেল মজুদকারী ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
বগুড়ায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুসলিম তরুণীকে ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ

আব্দুল হান্নান, শাজাহানপুর
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ৫৩ বার পঠিত

বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক মুসলিম তরুণীকে প্রতারণামূলকভাবে ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ উঠেছে হিন্দু এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী তরুণীর নাম রিমা সুলতানা (৩০), যিনি বর্তমানে ধর্ম ও পরিবার হারিয়ে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম জয়ন্ত কুমার সাহা (৩২), যিনি শাজাহানপুরের ডেমাজানি গ্রামের জয় চন্দ্র সাহার ছেলে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে ভুক্তভোগী রিমা সুলতানা। প্রথমে একটি মুসলিম পরিবারে বিয়ে হলেও পরবর্তীতে ঘর ছেড়ে অন্য এক যুবকের সাথে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি। সেখানে অবস্থানকালেই রিমা জানতে পারেন তার দ্বিতীয় স্বামী বিবাহিত। এই নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েন ও অশান্তির মাঝেই রিমার পরিচয় হয় তার দ্বিতীয় স্বামীর বন্ধু জয়ন্ত কুমার সাহার সাথে। জয়ন্ত প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে রিমাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন।
রিমার অভিযোগ, জয়ন্ত তার প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে রিমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সম্পর্ক গভীর হলে জয়ন্তের আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। তখন রিমার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে, জয়ন্ত ভবিষ্যতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন এই শর্তে রিমা বিবাহে সম্মতি দেন। পরবর্তীতে আইনি প্রমাণের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ৭ই মে মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর অধীনে তাদের কোর্ট ম্যারিজ এবং একই মাসের ২৩ তারিখে ‘উভয়ই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন’ এই শর্তে এফিডেভিট করা হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই জয়ন্তের আচরণ বদলে যেতে থাকে। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং উল্টো রিমাকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এই নিয়ে বিরোধ চরম আকারে পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় এক গ্রাম্য সালিশে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক হয়।
তালাকের ৮ মাস পর পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রিমা যখন চরম অসহায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন জয়ন্ত আবারও তার সাথে যোগাযোগ করেন। এবারও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রিমার সরলতার সুযোগ নেন। রিমাকে বলেন, হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতিতে বিয়ে না করলে তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। পরিবারকে দেখানোর অজুহাতে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই বগুড়া শহরের বাদুরতলা প্রেস পট্টি এলাকার ‘শ্রী শ্রী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরে’ পুরোহিত বিকাশ ঠাকুরের উপস্থিতিতে হিন্দু রীতি মেনে তাদের পুনরায় বিয়ে হয়। তবে মন্দিরে গিয়ে বিবাহের নথিপত্র পাওয়া যায় নি, সবকিছু গায়েব করা হয়েছে। বিবাহের দিন জয়ন্ত কৌশলে রিমার থেকে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে ৪ই জুলাই বগুড়া জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে রিমাকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত এবং নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হয় ‘রিমা রাণী সাহা’। রিমা পরে জানতে পারেন যে, তাকে প্রতারণা করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রিমার ধর্মান্তর ও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দালিলিক প্রমাণ হিসেবে জনসমক্ষে প্রচারের বা দৈনিক কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে গোপন রাখা হয়।
নিজের ধর্ম পরিচয় গোপন বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জয়ন্ত কুমার সাহা। তার দাবি, রিমা নিজের ইচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছে। প্রথম বিয়ের পর জয়ন্ত জানতে পারেন রিমার আগের সংসারে একটি ১২ বছরের সন্তান রয়েছে, যা নিয়ে কলহের জেরে তাদের প্রথম তালাক হয়। তালাকের পর রিমা ব্ল্যাকমেইল ও আত্মহত্যার হুমকি দিলে রিমার মায়ের অনুরোধে তিনি পুনরায় বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু বিয়ের পর রিমা শর্ত ভঙ্গ করে জয়ন্তকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য মানসিক নির্যাতন করছেন, যার কারণে সংসারে পুনরায় অশান্তি দেখা দিয়েছে। প্রেম, প্রতারণা আর ধর্মান্তরের এই নাটকীয় ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রভাবশালী লোক দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে তিনি অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিব ইকবাল জানান যে, ধর্ম পরিবর্তনের কোনো অভিযোগ তারা পাননি। মূলত স্বামী ভরণপোষণ দিচ্ছেন না এমন একটি অভিযোগ আসার পর তারা ভুক্তভোগীকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। পরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওসি জানান, বিষয়টি এখন সমাধানের পর্যায়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:



















