ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

কাঁটাতারের বেড়া বসবে মিয়ানমার সীমান্তে, ভারত সীমান্ত ‘বিবেচনাধীন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নাগরিকভাবনা ডেস্ক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ১৯ বার পঠিত

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

একই সঙ্গে ভারত সীমান্তেও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে বেড়া নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রাখা। তবে এই প্রকল্পগুলোর ব্যয়, সময়সীমা বা ভারত সীমান্তের নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম বসানো হয়েছে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস ও সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত অপরাধ দমনে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে বিওপিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমেছে এবং টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা ও চোরাচালান রোধে ঝুঁকি বিবেচনায় হাই-রিস্ক জোন চিহ্নিত করে নজরদারি রাখা হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা কমাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে রাতের যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাৎক্ষণিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের পুশইন করা হাজার হাজার মানুষকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত এক বছরে বিজিবি ১,৯৭৯ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য আটক করেছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে।

বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কারা বিভাগের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটগুলো মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান ১৮৬৭ সালের আইন রহিত করে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সীমান্তে কোনো ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র বা গোলাবারুদ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কাঁটাতারের বেড়া বসবে মিয়ানমার সীমান্তে, ভারত সীমান্ত ‘বিবেচনাধীন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

একই সঙ্গে ভারত সীমান্তেও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে বেড়া নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রাখা। তবে এই প্রকল্পগুলোর ব্যয়, সময়সীমা বা ভারত সীমান্তের নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম বসানো হয়েছে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন ডিভাইস ও সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত অপরাধ দমনে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে বিওপিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমেছে এবং টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা ও চোরাচালান রোধে ঝুঁকি বিবেচনায় হাই-রিস্ক জোন চিহ্নিত করে নজরদারি রাখা হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা কমাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে রাতের যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাৎক্ষণিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের পুশইন করা হাজার হাজার মানুষকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত এক বছরে বিজিবি ১,৯৭৯ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য আটক করেছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে।

বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন কারাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কারা বিভাগের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটগুলো মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান ১৮৬৭ সালের আইন রহিত করে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সীমান্তে কোনো ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র বা গোলাবারুদ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।