ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

মেডিকেলে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত রেজওয়ানের

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১৯০ বার পঠিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। তার মধ্যে একজন, রেজওয়ান আহমেদ ।

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার  সুযোগ পেয়েও  পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং ভর্তি ফি জোগাড় করার সমস্যা নিয়ে তিনি হতাশায়। রেজওয়ান জানায়, তার জন্য মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের সমস্যার কারণে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রেজওয়ান আহমেদের  বাড়ি উপকূলীয় অঞ্চল  খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতহালিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে অল্প বেতনে চাকরি করেন এবং মা আছিয়া খাতুন গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রেজওয়ান মেজ। ভাইবোনেরা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছেন।

রেজওয়ান আহমেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের পাঠ্যবই কেনার টাকা নিয়ে তার পরিবার প্রায়ই সমস্যায় পড়ত। তবে, সে কখনোই থেমে থাকেনি।অনেক না পাওয়ার মধ্যে বেড়ে উঠলেও তিনি শিক্ষাজীবনে প্রতিটি ধাপে সাফল্য পেয়েছেন।

গ্রামের  সাতহালিয়া সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পাস করার পর ভর্তি হন গিলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০২১ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে খুলনা সুন্দরবন কলেজে ছেলেকে ভর্তি করান রেজওয়ানের বাবা। সেখানেও জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য আনেন রেজওয়ান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কয়রা উপজেলা থেকে একমাত্র রেজওয়ান  গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

রেজওয়ান আহমেদের বাবা ইব্রাহিম খলিল যানায় ‘আমি অল্প বেতনে চাকরি করি। ২০১৫ সালে হঠাৎ আমার হৃদ্‌রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ধারদেনার মধ্যে  সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হয়। ছেলেটার মেডিকেলে ভর্তি আর পড়ালেখার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আগামী মাসের ২ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে ছেলেকে ভর্তি করাতে হবে। এখনো ভর্তির টাকাই জোগাড় করতে পারিনি। এখন খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

সাতহালিয়া গাউসুল আযম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, রেজওয়ান ছোট থেকেই নম্র, ভদ্র স্বভাবের একটি ছেলে। লেখা পড়ার প্রতি তার ছিল প্রবল ইচ্ছে শক্তি। রেজওয়ানের বাবা ইব্রাহীম খলিল আমার প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য একদিকে পরিবার অন্যদিকে ছেলের ভর্তি নিয়ে খুব দূশ্চিন্তাগ্রস্থ।

তিনি আরও বলেন,আমাদের সকলের দায়িত্ব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান যানিয়ে তিনি আরও বলেন,আমাদের সকলের দায়িত্ব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে আর্থিক অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্ন পূরণে বাধাগ্রস্ত না হয়।”

রেজওয়ান আহমেদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখেছি। প্রথমবার না পারলেও এবার আমি ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এখন ভর্তির জন্য যে টাকা প্রয়োজন, তা জোগাড় করতে পারছি না। আমার বাবা-মা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, কিন্তু এটি অনেক বড় পরিমাণ টাকা, যা আমাদের জন্য যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমার পড়া লেখা করানোর জন্য বাবা -মা অনেক কষ্ট করেছে। তাদের কষ্ট ঘোঁচানোর জন্য আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই। এখন আমার স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মেডিকেলে কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত রেজওয়ানের

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। তার মধ্যে একজন, রেজওয়ান আহমেদ ।

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার  সুযোগ পেয়েও  পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং ভর্তি ফি জোগাড় করার সমস্যা নিয়ে তিনি হতাশায়। রেজওয়ান জানায়, তার জন্য মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের সমস্যার কারণে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রেজওয়ান আহমেদের  বাড়ি উপকূলীয় অঞ্চল  খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতহালিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে অল্প বেতনে চাকরি করেন এবং মা আছিয়া খাতুন গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রেজওয়ান মেজ। ভাইবোনেরা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছেন।

রেজওয়ান আহমেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের পাঠ্যবই কেনার টাকা নিয়ে তার পরিবার প্রায়ই সমস্যায় পড়ত। তবে, সে কখনোই থেমে থাকেনি।অনেক না পাওয়ার মধ্যে বেড়ে উঠলেও তিনি শিক্ষাজীবনে প্রতিটি ধাপে সাফল্য পেয়েছেন।

গ্রামের  সাতহালিয়া সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পাস করার পর ভর্তি হন গিলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০২১ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে খুলনা সুন্দরবন কলেজে ছেলেকে ভর্তি করান রেজওয়ানের বাবা। সেখানেও জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য আনেন রেজওয়ান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কয়রা উপজেলা থেকে একমাত্র রেজওয়ান  গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

রেজওয়ান আহমেদের বাবা ইব্রাহিম খলিল যানায় ‘আমি অল্প বেতনে চাকরি করি। ২০১৫ সালে হঠাৎ আমার হৃদ্‌রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ধারদেনার মধ্যে  সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হয়। ছেলেটার মেডিকেলে ভর্তি আর পড়ালেখার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আগামী মাসের ২ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে ছেলেকে ভর্তি করাতে হবে। এখনো ভর্তির টাকাই জোগাড় করতে পারিনি। এখন খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

সাতহালিয়া গাউসুল আযম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, রেজওয়ান ছোট থেকেই নম্র, ভদ্র স্বভাবের একটি ছেলে। লেখা পড়ার প্রতি তার ছিল প্রবল ইচ্ছে শক্তি। রেজওয়ানের বাবা ইব্রাহীম খলিল আমার প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য একদিকে পরিবার অন্যদিকে ছেলের ভর্তি নিয়ে খুব দূশ্চিন্তাগ্রস্থ।

তিনি আরও বলেন,আমাদের সকলের দায়িত্ব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান যানিয়ে তিনি আরও বলেন,আমাদের সকলের দায়িত্ব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে আর্থিক অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্ন পূরণে বাধাগ্রস্ত না হয়।”

রেজওয়ান আহমেদ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখেছি। প্রথমবার না পারলেও এবার আমি ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এখন ভর্তির জন্য যে টাকা প্রয়োজন, তা জোগাড় করতে পারছি না। আমার বাবা-মা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, কিন্তু এটি অনেক বড় পরিমাণ টাকা, যা আমাদের জন্য যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমার পড়া লেখা করানোর জন্য বাবা -মা অনেক কষ্ট করেছে। তাদের কষ্ট ঘোঁচানোর জন্য আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই। এখন আমার স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।