ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ চীনের উপকূলে আঘাত হেনেছে।  এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন এটি।  তবে টাইফুনটি আঘাত হানার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই টাইফুনটি শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রথমে চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।

জাপানের দূরবর্তী কয়েকটি দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অতিক্রম করে, ফলে সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এর আগে ফিলিপাইনে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন।

বর্তমানে বাভির শক্তি কিছুটা কমে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও, এতে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে।

রোববার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছায়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।। পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস ও সব ধরনের বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনের গতিপথের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকেও কয়েক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ওয়েনঝৌর বাসিন্দা লি লিয়াংশিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। ‘

এদিকে, রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে সৃষ্টি হয়। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় এর গতি কমে ১৪৪ কিলোমিটার হয় এবং এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে।  সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয় এবং ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে জাপান ও তাইওয়ান—দুই দেশেই এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশই আরও শক্তিশালী করবে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
25 August 2026

বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত সভাপতি খোরশেদ, সম্পাদক জহিরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ চীনের উপকূলে আঘাত হেনেছে।  এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন এটি।  তবে টাইফুনটি আঘাত হানার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই টাইফুনটি শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রথমে চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।

জাপানের দূরবর্তী কয়েকটি দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অতিক্রম করে, ফলে সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এর আগে ফিলিপাইনে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন।

বর্তমানে বাভির শক্তি কিছুটা কমে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও, এতে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে।

রোববার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছায়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।। পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস ও সব ধরনের বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনের গতিপথের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকেও কয়েক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ওয়েনঝৌর বাসিন্দা লি লিয়াংশিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। ‘

এদিকে, রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে সৃষ্টি হয়। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় এর গতি কমে ১৪৪ কিলোমিটার হয় এবং এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে।  সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয় এবং ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে জাপান ও তাইওয়ান—দুই দেশেই এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card