ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত-৩০

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:    পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কাশ্মীরি সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতাদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রাওয়ালাকোটে ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে জেএএসির এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আজাদ কাশ্মীরে যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত থাকায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সোমবার আজাদ কাশ্মীরের মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলায় ১৩টি আসনে ভোট হয়। এসব আসনের মধ্যে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নয়টিতে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) চারটিতে জয় পেয়েছে।

২৭ জুলাই এক দফায় আজাদ কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট তিন দফায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২ আগস্ট দ্বিতীয় দফা এবং ১০ আগস্ট তৃতীয় দফার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে আজাদ কাশ্মীরে জয় পেয়েছিল ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে দলটি। পিটিআইয়ের অভিযোগ, এবারের নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।

আজাদ কাশ্মীরের প্রধান বিক্ষোভকারী সংগঠন জেএএসি-কে গত জুনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আঞ্চলিক সরকার। এর পর গত মাসে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদানও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর তাঁর জানা আছে।

পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারতের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা যোগ দিয়েছিল। তবে ভারত অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা ফজল মাহমুদ বেগ বলেন, ‘পুরো নির্বাচন জালিয়াতিতে ভরা।’

এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে অংশ নেওয়া সরদার মাজহার বলেন, ‘আমরা এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, আজাদ কাশ্মীরে সরকার গঠন করতে হলে পিএমএল-এনকে আরও ১২ জন প্রতিনিধির সমর্থন প্রয়োজন হবে। তাঁর ভাষায়, ‘যদি সরকারকে ১২টি বিতর্কিত আসনের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে তারা এ অঞ্চলের সংকটের সমাধান কীভাবে করবে?’

সোমবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যেও ফলাফল নিয়ে বিভাজন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেএএসির বিক্ষোভের বাইরেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রধান দুই দল পিএমএল-এন ও পিপিপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
30 July 2026

বিএনপি কর্মীকে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত-৩০

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:    পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কাশ্মীরি সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতাদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রাওয়ালাকোটে ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে জেএএসির এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আজাদ কাশ্মীরে যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত থাকায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সোমবার আজাদ কাশ্মীরের মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলায় ১৩টি আসনে ভোট হয়। এসব আসনের মধ্যে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নয়টিতে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) চারটিতে জয় পেয়েছে।

২৭ জুলাই এক দফায় আজাদ কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট তিন দফায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২ আগস্ট দ্বিতীয় দফা এবং ১০ আগস্ট তৃতীয় দফার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে আজাদ কাশ্মীরে জয় পেয়েছিল ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে দলটি। পিটিআইয়ের অভিযোগ, এবারের নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।

আজাদ কাশ্মীরের প্রধান বিক্ষোভকারী সংগঠন জেএএসি-কে গত জুনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আঞ্চলিক সরকার। এর পর গত মাসে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদানও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর তাঁর জানা আছে।

পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারতের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা যোগ দিয়েছিল। তবে ভারত অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা ফজল মাহমুদ বেগ বলেন, ‘পুরো নির্বাচন জালিয়াতিতে ভরা।’

এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে অংশ নেওয়া সরদার মাজহার বলেন, ‘আমরা এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, আজাদ কাশ্মীরে সরকার গঠন করতে হলে পিএমএল-এনকে আরও ১২ জন প্রতিনিধির সমর্থন প্রয়োজন হবে। তাঁর ভাষায়, ‘যদি সরকারকে ১২টি বিতর্কিত আসনের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে তারা এ অঞ্চলের সংকটের সমাধান কীভাবে করবে?’

সোমবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যেও ফলাফল নিয়ে বিভাজন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেএএসির বিক্ষোভের বাইরেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রধান দুই দল পিএমএল-এন ও পিপিপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card