ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ঝুঁকিতে শতাধিক একর ফসলি জমি

প্রবল পানির তোড়ে নীলফামারীর স্লুইসগেট ধস

নীলফামারী প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩০০ পরিবার।
রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্লুইসগেট সংলগ্ন মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই ব্রিজটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। এরপর নদীর বাঁধের পাশ দিয়ে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক-দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষক আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ভেঙে যাওয়া বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, এখানে গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল। এর ফলে পানি আটকে যায়। আমি গেট খোলার জন্য চিৎকার করছিলাম, গেটটা খুলে দেন। কেউ শুনল না। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। কিভাবে বাড়ি ঠিক করব।
ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

৫-আগস্ট: ইতিহাসের রক্তাক্ত পৃষ্ঠায় লেখা এক জাগরণের নাম

03 August 2026

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ রাশেদুল হক

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

ঝুঁকিতে শতাধিক একর ফসলি জমি

প্রবল পানির তোড়ে নীলফামারীর স্লুইসগেট ধস

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
নীলফামারী প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩০০ পরিবার।
রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্লুইসগেট সংলগ্ন মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই ব্রিজটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। এরপর নদীর বাঁধের পাশ দিয়ে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক-দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষক আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ভেঙে যাওয়া বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, এখানে গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল। এর ফলে পানি আটকে যায়। আমি গেট খোলার জন্য চিৎকার করছিলাম, গেটটা খুলে দেন। কেউ শুনল না। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। কিভাবে বাড়ি ঠিক করব।
ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”

Share this news as a Photo Card