শেখ রিফান আহমেদ : ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় দিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর নিক্ষেপ করা হয় বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় একটি প্রাণচঞ্চল নগরী। লক্ষাধিক মানুষ নিহত ও আহত হন। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে অসংখ্য মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। তিন দিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘটনা মানবজাতিকে আরও গভীর ক্ষতের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
হিরোশিমা দিবস কেবল অতীতের একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি মানবতার প্রতি এক সতর্কবার্তা। যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। যুদ্ধের বিজয়ীও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার কোনো দেশের নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিগতভাবে অনেক এগিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সীমান্ত বিরোধ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বিশ্বশান্তিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হিরোশিমার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই শান্তি, সহাবস্থান ও নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্বশান্তির প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই অবস্থান আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্মকে যুদ্ধের বিভীষিকা সম্পর্কে জানাতে হবে। শিক্ষা, গবেষণা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে হবে।
হিরোশিমা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবতার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। তাই সংঘাত নয়, সংলাপ; প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা; ধ্বংস নয়, শান্তির পথই হোক বিশ্বের ভবিষ্যৎ।
-লেখক সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 























