ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

হোমনায় পানির ডিস্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপনে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার, নির্ধারিত গভীরতার চেয়ে কম গভীরে পাইপ স্থাপন এবং সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে হোটেল ও গৃহস্থালির ময়লা পানির পাইপ স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপনের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট গভীরে পাইপ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির পাইপের সঙ্গে ময়লা পানির পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে পাইপে ফাটল বা লিকেজ হলে দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ কোটি ২২ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৬ টাকা। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত ব্যয় ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৭ টাকা ৪২ পয়সা এবং সংশোধিত ব্যয় ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান-নাসির জেভি। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর কার্যাদেশে ৯০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু লাইন চালু করা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবদুল আজিজ বলেন, অফিসের নির্দেশে সুপেয় পানির পাইপের সঙ্গে স্থাপন করা ময়লা পানির পাইপ সরিয়ে ফেলা হবে। বাকি কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে ময়লা পানির পাইপ স্থাপনের ঘটনায় ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। পাইপগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবুল হাশিম বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার।

পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুরই বিল দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানি ও ময়লা পানির পাইপ একসঙ্গে স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি

09 August 2026

পলাশবাড়ীতে গ্যাস লাইন,শিল্প কলকারখানা-কর্মসংস্থানের দাবি

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

হোমনায় পানির ডিস্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:৩৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপনে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার, নির্ধারিত গভীরতার চেয়ে কম গভীরে পাইপ স্থাপন এবং সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে হোটেল ও গৃহস্থালির ময়লা পানির পাইপ স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপনের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট গভীরে পাইপ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির পাইপের সঙ্গে ময়লা পানির পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে পাইপে ফাটল বা লিকেজ হলে দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ কোটি ২২ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৬ টাকা। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত ব্যয় ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৭ টাকা ৪২ পয়সা এবং সংশোধিত ব্যয় ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান-নাসির জেভি। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর কার্যাদেশে ৯০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু লাইন চালু করা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবদুল আজিজ বলেন, অফিসের নির্দেশে সুপেয় পানির পাইপের সঙ্গে স্থাপন করা ময়লা পানির পাইপ সরিয়ে ফেলা হবে। বাকি কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে ময়লা পানির পাইপ স্থাপনের ঘটনায় ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। পাইপগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবুল হাশিম বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার।

পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুরই বিল দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানি ও ময়লা পানির পাইপ একসঙ্গে স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card