পিরোজপুর অফিস: বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির ঘোষিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পিরোজপুরে দলিল লেখকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলিল লেখকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।
গত শনিবার সকাল ১০টায় পিরোজপুর শহরের নাইয়োরি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আখন্দ। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বরিশাল বিভাগের উপদেষ্টা মো. জাকির হোসেন মিনু।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মুকুলে আজম লিটন।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে দলিল লেখকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নের পাশাপাশি দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য সংগঠনের ঘোষিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা। সভায় পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান সংগঠনের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-১. পেশার সুরক্ষা: দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের অজুহাতে দলিল লেখকদের পেশা থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। ২. সম্মানী বৃদ্ধি: প্রতিটি দলিল লেখার জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করতে হবে। ৩. পেশাগত অধিকার নিশ্চিতকরণ: লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও দলিল লেখা বা মুসাবিদা করার সুযোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা: থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. আইনি সুরক্ষা: মক্কেল বা পক্ষের দেওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করার কারণে মুসাবিদাকারক হিসেবে দলিল লেখকদের কোনো মামলায় আসামি করা যাবে না। ৬. নতুন লাইসেন্স প্রদানে নীতিমালা: দলিল লেখক সমিতির সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ৭. দলিল লেখক কাউন্সিল: দলিল লেখকদের জন্য স্বতন্ত্র ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমোদন দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে তারা আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে পারবেন।
তাই দীর্ঘদিনের এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির বরিশাল বিভাগীয় ও পিরোজপুর জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার দলিল লেখকরা অংশগ্রহণ করেন।

পিরোজপুর অফিস 


















