অপু দাস,রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা পৃথক সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মোঃ রবিউল ইসলাম (৫২)কে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তার বিরুদ্ধে আদালতের ১৪টি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে। এসব মামলায় তার ১০ বছরের অধিক মেয়াদের সাজা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বেইলী রোডের অফিসার্স কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫, রাজশাহী ও র্যাব-৩, ঢাকার সিপিএসসি ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ৪৪ নম্বর দেবিসিংপাড়া এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। বিভিন্ন মামলায় আদালতের সাজা ও ওয়ারেন্ট থাকার পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৫ ও র্যাব-৩-এর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে ঢাকার রমনা থানাধীন বেইলী রোডের অফিসার্স কোয়ার্টার এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় পৃথক সিআর মামলায় মোট ১৪টি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একাধিক মামলাও রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে বোয়ালিয়া থানার মহানগর দায়রা-৫৩/২৫ এবং সিআর-১৫৪৮/২৩ নম্বর মামলায় এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সাজা রয়েছে। এছাড়া বোয়ালিয়া থানার সিআর সাজা রিসিভ নম্বর-৪০১/২৬ এবং কোর্ট প্রসেস নম্বর-৬৩/২৬, তারিখ ২ জুলাই ২০২৬-এর মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে।
এ ছাড়া একই ধারায় আরও ১৩টি মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। অর্থাৎ সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতের ১৪টি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট কার্যকর রয়েছে। এসব মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে আইনগত ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য তাদের অবস্থান শনাক্তে নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়। রবিউল ইসলামের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের পর তার ঢাকায় অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অস্ত্র, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার পৃথক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রবিউল ইসলামের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর ঢাকার রমনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট ও মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্ট অফিসারের ব্যবস্থাপনায় তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানিয়েছে, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও পরিচালনা করা হবে।

অপু দাস,রাজশাহী 




















