ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Mail Bill

মেইল বিল কি? প্রতিনিধি কেন মেইল বিল দিবে? মেইলে পত্রিকা নিয়ে প্রতিনিধি কার কাছে বিক্রি করবে? পুরাতন ও অভিজ্ঞ সংবাদকমীরা মেইলিং সিস্টেমের সাথে পূর্ব পরিচিত থাকলেও সাধারণ নতুন সংবাদকর্মীদের মনে এ জাতীয় প্রশ্ন উকি দেয়। আমরা সকলের উদ্দেশ্যে বিষয়টি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছি।

বর্তমানে দেশে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনের দৌরাত্ম্যে সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা হারিয়ে গিয়েছে ধরেই নেওয়া যায়। সংবাদপত্র পড়ার মতো পাঠক এখন আর কোথাও তেমন একটা খুজে পাওয়া যায় না। একমাত্র দালিলিক প্রমাণ হিসেবে এখনো অফিস আদালতে গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান থাকায়, কোনমতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে টিকে রয়েছে সংবাদপত্র। তবে এরজন্য পত্রিকার মালিকেরাও অনেকাংশে দায়ী। দক্ষ সংবাদকর্মীদের ওপর বিজ্ঞাপনের খড়গ চাপিয়ে দেওয়ায় কিংবা বিজ্ঞাপন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে মফস্বলের প্রতিনিধিদের পরিচয়পত্র নবায়ন না করায় পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে পেশাদার সাংবাদিকেরা, বেছে নিয়েছে বিকল্প কর্মসংস্থান। অন্যদিকে মানসম্মত লেখা না ছাপিয়ে কিংবা পাঠকের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে অতি মাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করায় ধীরে ধীরে কমেছে সংবাদপত্রের মান। তবে সংবাদপত্রের হারানো সেই জৌলুস ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমরা চাই, আবার সংবাদপত্র ফিরে যাক পাঠকের দ্বারে দ্বারে, মানুষের হাতে। তাই সংবাদপত্রকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করে, পরিচয় পত্র দেওয়ার নাম করে আর্থিক বাণিজ্য থেকে ফিরে আসতে চাই আমরা। আমাদের লক্ষ্য, সংবাদপত্র ফিরে পাক তার পাঠক। কিন্তু যেহেতু দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখনও আমরা প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারিনি, তাই অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের মতো সারাদেশে পত্রিকা বিক্রয়ের জন্য সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নকে দিতে পারছি না। ধরেন, দিনাজপুর আমার কোন প্রতিনিধি নেই, তাই নিউজও পাইনা। এখন দিনাজপুরে পত্রিকা পাঠালে, খুলনার খবর পড়তে কেউ কি পত্রিকা কিনবে? এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে পরবর্তীতে বাজার ধরতে খুব ঝামেলা হয়। এই কারণে যতক্ষন একটি জেলার সকল উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চূড়ান্ত না হচ্ছে, ততোক্ষন প্রতিনিধি নিজ এলাকায় সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের নিয়োজিত এজেন্টের কাছ থেকে মেইল বিল প্রদানের মাধ্যমে পত্রিকা নিবে, আর উক্ত প্রতিনিধি শুধু এই মেইল বিলটি পরিশোধ করবে। কারণ আমাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চাই পাঠকের হাতে পত্রিকা তুলে দিতে, পত্রিকার প্রচার বাড়াতে। এই পত্রিকা বিক্রি না করে যদি প্রচার ও প্রসারে সৌজন্য কপি হিসেবে উক্ত প্রতিনিধি ব্যবহার করে, তবে ফল পাওয়া যাবে দ্রুত।

আর একটা কথা মনে রাখবেন, প্রতিনিধির নিয়োগ এর বিপরীতে বা কোন প্রকার কার্ড বাণিজ্য কখনোই দৈনিক নাগরিক ভাবনা করে না। এমনকি আমাদের প্রতিনিধিদের জন্য নেই কোন বিজ্ঞাপন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা। শিক্ষানবিশ সময়ে শুধু কমিশন মিললেও, স্থায়ী নিয়োগে প্রতিনিধিদের জন্য রয়েছে সম্মানী। নাগরিক ভাবনায় কর্মকালীন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনার শিকার হলে রয়েছে পুনর্বাসন ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, নাগরিক ভাবনা’র সাংবাদিক পরিচয়ে দেশের শতাধিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা বা থেরাপি নেওয়া, বিমান বা বাসের টিকেট সংগ্রহ কিংবা অবকাশকালীন সফরে গিয়ে বিবিধ সেবা গ্রহণে থাকে সর্বোচ্চ ছাড়।

তাই, দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’ পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই পত্রিকা গ্রহণ করতে হবে। আর মেইলের মাধ্যমে পত্রিকা গ্রহণের নির্ধারিত মেইল বিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিত পরিশোধ করিতে হইবে।

  • জেলা প্রতিনিধির জন্য মেইলে দৈনিক ‍সর্বনিম্ন ১০ কপি ও উপজেলা প্রতিনিধির জন্য দৈনিক ০৫ কপি পত্রিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
  • সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের নির্ধারিত এজেন্টের কাছে মেইলের মাধ্যমে দৈনিক ৫ কপি করে পত্রিকা নিলে খরচ পড়বে মাসিক ১,০০০/-, ১০ কপি করে নিলে খরচ পড়বে মাসিক ১,৭০০/- এবং ২০ কপি করে পত্রিকা নিলে খরচ পড়বে মাসিক ৩,০০০/-।
  • প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ব্যাতীত মাসে মোট ২২ দিন সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের মাধ্যমে আপনার নিজ এলাকার এজেন্টের কাছে পত্রিকা পাঠানো হইবে। এছাড়া শুক্র-শনিবারসহ বাকি ৮ দিনের পত্রিকা কুরিয়ারে মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী আপনার কাছে পাঠানো হবে।
  • শুধুমাত্র যে সকল এলাকায় সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমে পত্রিকা পাঠানো সম্ভব নহে, অথবা নিয়মিত পত্রিকা পাঠানোর পরেও প্রতিনিধি পত্রিকা পান না। শুধুমাত্র সেই সব এলাকার প্রতিনিধিদের জন্য মেইল এর বিকল্প মাধ্যম অর্থাৎ কুরিয়ারের মাধ্যমে পত্রিকা নিতে পারবেন। কুরিয়ারের মাধ্যমে পত্রিকা নিতে মাসিক খরচ পড়বে ৫০০/-।

নতুন প্রতিনিধিকে চলতি মাসের মেইল বিলসহ পরবর্তী মাসের মেইল বিল-ও অগ্রিম প্রদান করতে হবে, যেন মেইল বিল প্রদানে প্রতিনিধির কোন কারণে বিলম্ব ঘটলেও পত্রিকা প্রেরণ বন্ধ না থাকে।