ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

আজও রাজধানী ঢাকা যখন ফাঁকা, সড়কে নেই কোন যানজট

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে টানা পাঁচ দিনের ছুটির প্রভাবে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে চিরচেনা যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকা। পূজার উৎসব শেষ হয়েছে গতকাল রাতে, শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের মতো নেই সারি সারি গণ-পরিবহন। নেই কর্মজীবী মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততা। আর এতেই চিরচেনা রূপ হারিয়ে রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত ও ভিন্ন আমেজে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
দেখা গেছে, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট হয়ে সংসদ ভবন রোডের মতো ব্যস্ত সড়কেও নির্বিঘ্নে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, সেখানে এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে অর্ধেকেরও কম। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে চিরচেনা যানজটের এলাকাগুলো। প্রতিদিনের মতো রাস্তায় নেই সারি সারি গণপরিবহনের লাইন। বাসগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রীর চাপ ছিল না কোনো পরিবহনে।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বর বাস স্টেশনের পাশে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক রিকশা চালক। তিনি বলেন, গতকাল মাত্র ২০ মিনিটে শাহবাগ থেকে বেড়িবাঁধ এলাকায় পৌঁছেছি। রাস্তাঘাটে যানবাহনের চাপ একেবারেই কম ছিল। আজ সকালেও ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সাধারণত এই সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ থাকে, বিভিন্ন মোড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু গতকাল ও আজ সড়কে যানবাহন কম থাকায় সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি, যাত্রীর সংখ্যাও কম। রিকশা চালকদের যাত্রী পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ যাত্রী পেলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রী পাচ্ছেন না। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
সাত মসজিদ সড়কের রজনীগন্ধার এক বাস চালক বলেন, পূজার ছুটির কারণে ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে গেছে। পাঁচ দিনের ছুটির কারণে হিন্দু মুসলিম সবাই বাড়িতে চলে গেছে। যার কারণে যাত্রী খুবই কম। আগামী রোববার পর্যন্ত সড়কে এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। যাত্রী কম থাকায় অনেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
ফার্মগেট ওভার ব্রিজে চলাচল করা এক পথযাত্রী বলেন, ঈদের ছুটির সময় এমন ফাঁকা পাওয়া যায়। এবার পূজার সময়ও দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকে গ্রামে চলে গেছে। দীর্ঘ ছুটি না হলে, ঢাকা শহর এমন ফাঁকা দৃশ্য দেখা যায় না।
নগরীর এই চিত্র অচেনা হলেও আমরা যারা ঢাকায় আছি, তাদের জন্য কয়েক দিনের এই পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক।
সংসদের দক্ষিনপ্লাজার সামনে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ভিআইপি ২৭ বাসের এক হেলপার বলেন, আজীমপুর থেকে গাড়িটা ছাড়লে আড়ং পর্যন্ত আসার আগেই সব সিট পূরণ হয়ে যেত। আজকে সেই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত দু-তিনদিন ধরে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। পূজার ছুটি তো হয়তো সবাই বাড়িতে চলে গেছে। রোববার থেকে যাত্রী বাড়বে বলে আমরা মনে করছি।
শুধু সড়কের নয়, বাস স্ট্যান্ডের পাশে ছোট ছোট টং দোকানগুলোতে অন্য সময় ভিড় থাকলেও এখন অনেকটাই ফাঁকা। পূজার ছুটির প্রভাব এই টং দোকানেও পড়েছে।

ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডের ইউনিমার্টের সামনে বাস স্টেশন এর পাশে ফুটপাতের এক টং দোকানদার বলেন, লোকজনই নাই। বিক্রি কম। সবাই গ্রামে চলে গেছে। লোকজন না থাকলে কার কাছে বিক্রি করবো ?
নগরবাসীর অনেকে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দিন ঢাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাবে। ছুটি শেষ হলে আবারও চিরচেনা রূপে ফিরবে এই শহর। তবু সাময়িক এই স্বস্তি উপভোগ করছেন নগরবাসী।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
22 October 2026

গৌরীপুরে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল সঞ্জীবের

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

আজও রাজধানী ঢাকা যখন ফাঁকা, সড়কে নেই কোন যানজট

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে টানা পাঁচ দিনের ছুটির প্রভাবে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে চিরচেনা যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকা। পূজার উৎসব শেষ হয়েছে গতকাল রাতে, শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের মতো নেই সারি সারি গণ-পরিবহন। নেই কর্মজীবী মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততা। আর এতেই চিরচেনা রূপ হারিয়ে রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত ও ভিন্ন আমেজে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
দেখা গেছে, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট হয়ে সংসদ ভবন রোডের মতো ব্যস্ত সড়কেও নির্বিঘ্নে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, সেখানে এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে অর্ধেকেরও কম। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে চিরচেনা যানজটের এলাকাগুলো। প্রতিদিনের মতো রাস্তায় নেই সারি সারি গণপরিবহনের লাইন। বাসগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রীর চাপ ছিল না কোনো পরিবহনে।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বর বাস স্টেশনের পাশে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক রিকশা চালক। তিনি বলেন, গতকাল মাত্র ২০ মিনিটে শাহবাগ থেকে বেড়িবাঁধ এলাকায় পৌঁছেছি। রাস্তাঘাটে যানবাহনের চাপ একেবারেই কম ছিল। আজ সকালেও ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সাধারণত এই সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ থাকে, বিভিন্ন মোড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু গতকাল ও আজ সড়কে যানবাহন কম থাকায় সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি, যাত্রীর সংখ্যাও কম। রিকশা চালকদের যাত্রী পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ যাত্রী পেলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রী পাচ্ছেন না। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
সাত মসজিদ সড়কের রজনীগন্ধার এক বাস চালক বলেন, পূজার ছুটির কারণে ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে গেছে। পাঁচ দিনের ছুটির কারণে হিন্দু মুসলিম সবাই বাড়িতে চলে গেছে। যার কারণে যাত্রী খুবই কম। আগামী রোববার পর্যন্ত সড়কে এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। যাত্রী কম থাকায় অনেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
ফার্মগেট ওভার ব্রিজে চলাচল করা এক পথযাত্রী বলেন, ঈদের ছুটির সময় এমন ফাঁকা পাওয়া যায়। এবার পূজার সময়ও দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকে গ্রামে চলে গেছে। দীর্ঘ ছুটি না হলে, ঢাকা শহর এমন ফাঁকা দৃশ্য দেখা যায় না।
নগরীর এই চিত্র অচেনা হলেও আমরা যারা ঢাকায় আছি, তাদের জন্য কয়েক দিনের এই পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক।
সংসদের দক্ষিনপ্লাজার সামনে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ভিআইপি ২৭ বাসের এক হেলপার বলেন, আজীমপুর থেকে গাড়িটা ছাড়লে আড়ং পর্যন্ত আসার আগেই সব সিট পূরণ হয়ে যেত। আজকে সেই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত দু-তিনদিন ধরে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। পূজার ছুটি তো হয়তো সবাই বাড়িতে চলে গেছে। রোববার থেকে যাত্রী বাড়বে বলে আমরা মনে করছি।
শুধু সড়কের নয়, বাস স্ট্যান্ডের পাশে ছোট ছোট টং দোকানগুলোতে অন্য সময় ভিড় থাকলেও এখন অনেকটাই ফাঁকা। পূজার ছুটির প্রভাব এই টং দোকানেও পড়েছে।

ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডের ইউনিমার্টের সামনে বাস স্টেশন এর পাশে ফুটপাতের এক টং দোকানদার বলেন, লোকজনই নাই। বিক্রি কম। সবাই গ্রামে চলে গেছে। লোকজন না থাকলে কার কাছে বিক্রি করবো ?
নগরবাসীর অনেকে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দিন ঢাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাবে। ছুটি শেষ হলে আবারও চিরচেনা রূপে ফিরবে এই শহর। তবু সাময়িক এই স্বস্তি উপভোগ করছেন নগরবাসী।

Share this news as a Photo Card