ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

আজারবাইজানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে সম্মত প্রধান উপদেষ্টা

নাগরিক ভাবনা ডেস্ক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১১১ বার পঠিত

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস আজারবাইজানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বিনিময় কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় আজারবাইজানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলনুর মাম্মাদোভ সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা আজারবাইজানের ঢাকায় দূতাবাস স্থাপন ও ঢাকা-বাকু সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আজারবাইজান এখনো একটি দূরবর্তী দেশ। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জ্বালানি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং আজারবাইজানি শিক্ষার্থীরাও আমাদের টেক্সটাইল খাত থেকে শিখতে আগ্রহী হবে।”

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় দূতাবাস খোলা হলে ভিসাজনিত জটিলতা দূর হবে এবং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

উভয়ের মধ্যে হওয়া বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোচনা হয়।

আলোচনার সময় অধ্যাপক ইউনুস গত নভেম্বরে বাকুতে অনুষ্ঠিত COP29 সম্মেলনের ফাঁকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য আজারবাইজান সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্ট আলিয়েভকে ধন্যবাদ জানানোর অনুরোধ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আজারবাইজানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং দেশের বিপুল জনসম্পদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ রয়েছে, যার অর্ধেকই তরুণ। ফলে শিল্প স্থাপনে কর্মীর কোনো ঘাটতি হবে না।”

আজারবাইজানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৫তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

“আমরা সম্পর্ক আরও গভীর করতে এসেছি,” বলেন উপ-মন্ত্রী মাম্মাদোভ।

এসময় তিনি আজারবাইজানের দুর্নীতি দমন ও জনসেবা কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত ASAN ও DOST মডেলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা এ দুটি সেবামূলক ধারণার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে এগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সভায় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী জুলাইয়ে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (ECO) ১৭তম সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

আজারবাইজানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে সম্মত প্রধান উপদেষ্টা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস আজারবাইজানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বিনিময় কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় আজারবাইজানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলনুর মাম্মাদোভ সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা আজারবাইজানের ঢাকায় দূতাবাস স্থাপন ও ঢাকা-বাকু সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আজারবাইজান এখনো একটি দূরবর্তী দেশ। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জ্বালানি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং আজারবাইজানি শিক্ষার্থীরাও আমাদের টেক্সটাইল খাত থেকে শিখতে আগ্রহী হবে।”

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় দূতাবাস খোলা হলে ভিসাজনিত জটিলতা দূর হবে এবং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

উভয়ের মধ্যে হওয়া বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোচনা হয়।

আলোচনার সময় অধ্যাপক ইউনুস গত নভেম্বরে বাকুতে অনুষ্ঠিত COP29 সম্মেলনের ফাঁকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য আজারবাইজান সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য প্রেসিডেন্ট আলিয়েভকে ধন্যবাদ জানানোর অনুরোধ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আজারবাইজানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং দেশের বিপুল জনসম্পদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ রয়েছে, যার অর্ধেকই তরুণ। ফলে শিল্প স্থাপনে কর্মীর কোনো ঘাটতি হবে না।”

আজারবাইজানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৫তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

“আমরা সম্পর্ক আরও গভীর করতে এসেছি,” বলেন উপ-মন্ত্রী মাম্মাদোভ।

এসময় তিনি আজারবাইজানের দুর্নীতি দমন ও জনসেবা কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত ASAN ও DOST মডেলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা এ দুটি সেবামূলক ধারণার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে এগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সভায় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী জুলাইয়ে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (ECO) ১৭তম সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।