ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন
বরেণ্য গীতিকবি,সুরকার,লেখক ও সংগীত গুরু ইউনুস আলী মোল্লার
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে মাদারীপুরে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
গণধর্ষেণের শিকার ৬-বছরের শিশু ও ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী: গ্রেফতার-১
জাল টাকার কারখানায় অভিযান, আটক-১
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কুবিতে কনসার্টে দুই বিভাগের সংঘর্ষ

সাব্বির হোসেন, কুবি প্রতিনিধি
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / ৮৭ বার পঠিত

গত ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আয়োজিত এক কনসার্টে মার্কেটিং বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে দুই বিভাগের মধ্যে দোষারোপ ও সমালোচনা চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় কনসার্টের চলাকালে। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদির মিয়া জানান, “কনসার্ট চলাকালে সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী মুক্তমঞ্চ থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিল। আশেপাশে অনেক সিনিয়র আপু ও মেয়ে শিক্ষার্থী থাকায় আমি তাদের এমন আচরণ বন্ধ করতে বলি। তখন তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। পরে আমার হলের কয়েকজন বড় ভাই আমাকে সরিয়ে নেন।”
অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান (১৬তম ব্যাচ) বলেন, “আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। কথা বলার সময় মাওলা একটি অশোভন শব্দ ব্যবহার করে। তখন সাদির ভাই আমাদের এমন ভাষা বন্ধ করতে বলেন। আমরা বলি আর এমন হবে না। কিন্তু এরপরও তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রিফাত ভাই এগিয়ে আসেন। পরে আমাকে মুক্তমঞ্চের উপরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন দেখি নিচে ঝামেলা শুরু হয়ে গেছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান, গোলাম মাওলা প্রমুখ কনসার্টের সময়ে মুক্তমঞ্চ থেকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদির মিয়া প্রতিবাদ জানান এবং ভাষা সংযত রাখার অনুরোধ করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা সাদির মিয়াকে সরিয়ে নেন।
তবে এই ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সরকার তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে তর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাদেক সরকারকে ঘুষি ও লাথি মেরে মুক্তমঞ্চ থেকে নিচে নামিয়ে আনেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামলায় অংশ নেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকী (১৪তম), আতিকুর রহমান তনয় (১৫তম), প্রসেনজিৎ দাস (১৬তম) ও আল শাহরিয়ার অন্তু (১৭তম)।
৩১ মে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই চারজনের নাম উল্লেখ করে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে সৌরভ, অন্তু এবং প্রসেনজিৎ দাবি করেন, সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হাসান রিফাতকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার পর তারা সংঘর্ষে জড়ান।
আতিকুর রহমান তনয় বলেন, “দর্শক সারিতে রিফাত ভাই ও কয়েকজন জুনিয়রের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছিল। তখন আমরা শান্ত করতে যাই। সাদেক সরকার আমাকে ‘সাংবাদিকতার হ্যাডম দেখাতে এসেছিস?’ বলে। আমি কারণ জানতে চাইলে সে হঠাৎ আমাকে ধাক্কা দেয়। আমি পড়ে যাই, চশমা পড়ে যায়।”
সাদেক সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সেখানে গিয়ে বলি, প্রোগ্রামটা যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। তাদের কেউ হয়তো পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। তারা ভেবেছে আমি করেছি, এরপরই আমাকে মারতে শুরু করে।”
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সাদেক সরকারকে সাথে নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের সাখাওয়াত অরণ্য, তাজওয়ার তাজ, তাওহিদ রহমান সাকিব, মোহাম্মদ সাজিদসহ প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আবারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে ফের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় সাখাওয়াত অরণ্য বেল্ট খুলে সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু শামা। তিনি অরণ্যকে প্রশ্ন করলে ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে শুভ সাংবাদিক আবু শামাকে ধাক্কা দেন এবং তার কর্মীরা “আগে সাংবাদিক মার” বলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রদলকর্মীরা হলেন: সাইফুল মালেক আকাশ (বাংলা-১৫), জহিরুল ইসলাম জয় (ইংরেজি-১৬), তাওহিদ রহমান সাকিব (মার্কেটিং-১৭) ও তাজওয়ার তাজ (মার্কেটিং-১৫)।
এসময় ভিডিও ফুটেজ নিতে গেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহর ফোন কেঁড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন ছাত্রদলকর্মী সাইফুল মালেক আকাশ।
পুরো ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, “ইমেইলে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। খোলার পর আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবো।”
আরও পড়ুন:



















