ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দিনব্যাপী ছিল বর্ণিল আয়োজন

কুবির ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সাব্বির হোসেন, কুবি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / ৮২ বার পঠিত

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) তার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর নেতৃত্বে এক আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এরপর কেক কেটে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

কেক কাটার পর বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনামের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম।

আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “আজকের এই দিনে আসতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের ত্যাগকে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আজকের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—কোনো বিভাজন নয়, একে অপরের সহিত মিলেমিশে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের পর আমরা মুক্তভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করতে পারছি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি। এই পরিবর্তন আমাদের নতুন প্রত্যয় ও স্বপ্ন দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ। তবে রাষ্ট্র ও সমাজের গঠনমূলক পরিবর্তনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী—সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে কাঠামোগত পরিবর্তন ও মানসিকতার, সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সামষ্টিক পর্যায়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আজ ২৮ মে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে। চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্রজনতা দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে ভূমিকা রেখেছে। আশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সকল প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।”

তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ২৮৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০১ জনের প্রোফাইল খালি। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু ক্লাস নেওয়া নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করাই শিক্ষকের কাজ। একটি বিভাগে মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ৭টি ব্যাচ চালানো হলে গবেষণার সুযোগ কমে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটিকালে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখে, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ নেই। তবুও আমাদের শিক্ষকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন; তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের ২৬তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দিনব্যাপী ছিল বর্ণিল আয়োজন

কুবির ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) তার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর নেতৃত্বে এক আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এরপর কেক কেটে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

কেক কাটার পর বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনামের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম।

আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “আজকের এই দিনে আসতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের ত্যাগকে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আজকের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—কোনো বিভাজন নয়, একে অপরের সহিত মিলেমিশে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের পর আমরা মুক্তভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করতে পারছি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি। এই পরিবর্তন আমাদের নতুন প্রত্যয় ও স্বপ্ন দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ। তবে রাষ্ট্র ও সমাজের গঠনমূলক পরিবর্তনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী—সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে কাঠামোগত পরিবর্তন ও মানসিকতার, সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সামষ্টিক পর্যায়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আজ ২৮ মে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে। চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্রজনতা দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে ভূমিকা রেখেছে। আশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সকল প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।”

তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ২৮৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০১ জনের প্রোফাইল খালি। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু ক্লাস নেওয়া নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করাই শিক্ষকের কাজ। একটি বিভাগে মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ৭টি ব্যাচ চালানো হলে গবেষণার সুযোগ কমে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটিকালে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখে, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ নেই। তবুও আমাদের শিক্ষকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন; তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের ২৬তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।