ঢাকা, বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
পরিকল্পনাহীনতায় প্রতিবছরই একই চিত্র

গাইবান্ধায় ৪৮-পয়েন্টে ভাঙন, বিপন্ন জনজীবন

 মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অন্তত ৪৮টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের অভাবে জেলার চার উপজেলার অন্তত ১০ হাজার পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৪৮টি গ্রামে তীব্র নদীভাঙন চলছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো।
ভাঙনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন নতুন এলাকাও প্রতিনিয়ত ভাঙনের মুখে পড়ছে।
সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের বাসিন্দা আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চরাঞ্চলে নদীভাঙন থামছেই না, অথচ তা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো টেকসই উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া চরের রাজা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “চোখের সামনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল, কিন্তু তা রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এভাবে একের পর এক সম্পদ হারিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।”
সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মূল ভূখণ্ডে (মেইনল্যান্ড) কিছু উদ্যোগ চোখে পড়লেও চরাঞ্চলের ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো টেকসই পরিকল্পনা নেই। ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা চরের বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে উন্নয়ন গবেষক ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম বলেন, “গাইবান্ধার চরাঞ্চল এখন কৃষি ও প্রাণিসম্পদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। জেলার মোট জনসংখ্যার অন্তত ৩৫ শতাংশ মানুষ চরাঞ্চলেই বসবাস করে। কিন্তু বর্তমানে চরের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন। বন্যার ক্ষতি মানুষ কোনোভাবে কাটিয়ে উঠতে পারলেও নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আবাদি জমি ও বসতভিটা বারবার স্থানান্তরের কারণে তারা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।” তিনি আরও জানান, চলতি মাসে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার কামারজানিতে নদীভাঙনের শিকার ২২০টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার চার উপজেলায় ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো মানুষের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর নদীভাঙন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ফুলছড়ি উপজেলায় জরুরি ভাঙন প্রতিরোধে কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া চরাঞ্চলসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

কক্সবাজারে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

সকল ধর্ম ও মতের মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় থাকবো : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পরিকল্পনাহীনতায় প্রতিবছরই একই চিত্র

গাইবান্ধায় ৪৮-পয়েন্টে ভাঙন, বিপন্ন জনজীবন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
 মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অন্তত ৪৮টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের অভাবে জেলার চার উপজেলার অন্তত ১০ হাজার পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৪৮টি গ্রামে তীব্র নদীভাঙন চলছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো।
ভাঙনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন নতুন এলাকাও প্রতিনিয়ত ভাঙনের মুখে পড়ছে।
সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের বাসিন্দা আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চরাঞ্চলে নদীভাঙন থামছেই না, অথচ তা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো টেকসই উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া চরের রাজা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “চোখের সামনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল, কিন্তু তা রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এভাবে একের পর এক সম্পদ হারিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।”
সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মূল ভূখণ্ডে (মেইনল্যান্ড) কিছু উদ্যোগ চোখে পড়লেও চরাঞ্চলের ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো টেকসই পরিকল্পনা নেই। ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা চরের বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে উন্নয়ন গবেষক ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম বলেন, “গাইবান্ধার চরাঞ্চল এখন কৃষি ও প্রাণিসম্পদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। জেলার মোট জনসংখ্যার অন্তত ৩৫ শতাংশ মানুষ চরাঞ্চলেই বসবাস করে। কিন্তু বর্তমানে চরের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন। বন্যার ক্ষতি মানুষ কোনোভাবে কাটিয়ে উঠতে পারলেও নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আবাদি জমি ও বসতভিটা বারবার স্থানান্তরের কারণে তারা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।” তিনি আরও জানান, চলতি মাসে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার কামারজানিতে নদীভাঙনের শিকার ২২০টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার চার উপজেলায় ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো মানুষের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর নদীভাঙন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ফুলছড়ি উপজেলায় জরুরি ভাঙন প্রতিরোধে কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া চরাঞ্চলসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card