
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দৌলখাঁড় ইউনিয়নের দেওভান্ডার গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখল চেষ্টা ও জমির মালিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে কেকৈয়া গ্রামের হারুনুর রশিদ ও দেওভান্ডার গ্রামের আবুল কালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে দেওভান্ডার বাজারের অশ্বদিয়া সড়কের সৈয়দ বাড়ি সংলগ্ন স্থানে এ দখল চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম। অভিযুক্তরা জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে দেওভান্ডার সৈয়দ বাড়ির গাজীউল হক রতন, তার স্ত্রী ইসরাত জাহান শেফালী, তাদের ছেলে কাজী আরিফুল হক কিশোরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায় এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
ভুক্তভোগী গাজীউল হক রতন বলেন, আমার দাদী সৈয়দা কোমরের নেছা ও আমার দাদীর বড় বোন সৈয়দা জিন্নতের নেছার নামে এই জমিটি সি.এস খতিয়ান সৃজিত হয়। পরবর্তীতে ভুল বসত আর.এস খতিয়ানে জমিট আমাদের খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে সরকারের নামে হয়ে যায়। ফলে আমরা এ জমির মালিকানা ফিরে ফেতে আদালতের স্মরণাপন্ন হই, আমাদের মমলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ সুযোগে বটতলী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের আলিআজ্জম ও তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন এ জমি সরকারের নিকট থেকে কৃষি জমি হিসাবে চাষাবাদের জন্য বন্দবস্ত নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বন্দবস্তের জমি নিজ নামে খতিয়ান করে হারুনুর রশিদ ও আবুল কালামের নিকট বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জমিটির বন্দবস্ত বাতিল করে দেয়। জমির বন্দবস্ত বাতিল হওয়ায় ওই বন্দবস্ত দলিল দিয়ে করা সকল দলিল ও খতিয়ান অবৈধ হয়ে যায়। ফলে আলি আজ্জম ও ফিরোজা খাতুনের বন্দবস্তের জমি ক্রেতা হারুনুর রশিদ ও আবুল কালামের দলিলটিও বাতিল হয়ে যায়।
তারপরও হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম দলবল নিয়ে এসে আদালতে মামলা চলমান আমাদের সি.এস খতিয়ানের জমিটি দখল করার চেষ্টা চালায়। আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও দৌলখাঁড় ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা জমিটিতে কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে তাদেরকে নিষেধ করে। কিন্তু তারা বাধা উপেক্ষা করে জমিটি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। আমি ঢাকায় থাকায় এ সময় আমার ছেলে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের উপর ছড়াও হয়, পরে ছেলেকে রক্ষা করতে আমার স্ত্রী সেখানে যায়। এখন দখলকারীরা উল্টো আমাদের নামে থানায় অভিযোগ ও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম মেম্বার বলেন, আমরা জমিটি আলি আজ্জম ও ফিরোজা খাতুন থেকে কিনেছি। আলি আজ্জম ও ফিরোজা খাতুনের বন্দবস্ত বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তাদের দলিল ও খতিয়ান বৈধ কিনা প্রশ্ন করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেনি।
দৌলখাঁড় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করে বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের এস আই আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষকে তাদের কাগজপত্র নিয়ে বসে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি। তারা উভয় পক্ষ বৃহস্পতিবার বসার কথা রয়েছে।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 



















