ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
টঙ্গী-আশুলিয়া-সদরঘাট রুট

ঢাকার চক্রাকার নৌপথে চালু হবে ওয়াটার বাস: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু করা হবে।

তিনি জানান, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রী পরিবহনের জন্য উপযোগী হলেও অন্য অংশে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) অতীতে ওয়াটার বাস পরিচালনা করলেও যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এবার কয়েকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চান।

মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ রুটে যাত্রী বাড়াতে হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর ওয়াটার বাস পরিচালনার প্রয়োজন হবে। তবে এতে পরিচালন ব্যয় বাড়বে। তাই প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নদীদূষণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী পরিষ্কার না থাকলে মানুষ নদীপথে যাতায়াতে আগ্রহী হবে না। এজন্য নদী পরিষ্কার, দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং নৌপথকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবার বৈঠক হবে।

নৌপথে নিচু সেতুর বিষয়েও মন্ত্রী বলেন, টঙ্গীর রেলসেতুসহ কয়েকটি স্থানে ওয়াটার বাস চলাচলে সমস্যা রয়েছে। সড়ক সেতু প্রয়োজন হলে উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে রেলসেতুর ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে পুনরায় ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

আগের প্রকল্পে বিআইডব্লিউটিসির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে না পারাই মূল কারণ ছিল। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। প্রয়োজন হলে পরে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

বেনজীর দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন

02 August 2026

পুলিশকে হতে হবে নিরপেক্ষ,জনবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

টঙ্গী-আশুলিয়া-সদরঘাট রুট

ঢাকার চক্রাকার নৌপথে চালু হবে ওয়াটার বাস: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু করা হবে।

তিনি জানান, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রী পরিবহনের জন্য উপযোগী হলেও অন্য অংশে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) অতীতে ওয়াটার বাস পরিচালনা করলেও যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এবার কয়েকজন বেসরকারি উদ্যোক্তা ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চান।

মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ রুটে যাত্রী বাড়াতে হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর ওয়াটার বাস পরিচালনার প্রয়োজন হবে। তবে এতে পরিচালন ব্যয় বাড়বে। তাই প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নদীদূষণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী পরিষ্কার না থাকলে মানুষ নদীপথে যাতায়াতে আগ্রহী হবে না। এজন্য নদী পরিষ্কার, দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং নৌপথকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবার বৈঠক হবে।

নৌপথে নিচু সেতুর বিষয়েও মন্ত্রী বলেন, টঙ্গীর রেলসেতুসহ কয়েকটি স্থানে ওয়াটার বাস চলাচলে সমস্যা রয়েছে। সড়ক সেতু প্রয়োজন হলে উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে রেলসেতুর ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে পুনরায় ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

আগের প্রকল্পে বিআইডব্লিউটিসির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে না পারাই মূল কারণ ছিল। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। প্রয়োজন হলে পরে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card