ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর কর্মস্থল বা নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ করা স্ত্রীর জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, এমন পদক্ষেপে স্বামীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভরণপোষণ বা খোরপোশের দাবিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সম্প্রতি বিচারপতি বি ভি নাগারথনা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, দাম্পত্য বিরোধের কারণে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা এক বিষয়, কিন্তু আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে জীবনসঙ্গীর জীবিকা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত করা আরও গুরুতর বিষয়।

মামলাটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, তার স্বামী চাকরির সেবা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তার এক সহকর্মী আসামের একটি আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে নারী মামলাটি গাজিয়াবাদে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। তার যুক্তি ছিল, স্বামীর বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলার শুনানি গাজিয়াবাদেই চলছে।

শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারথনা বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ করা এমন একটি পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত স্বামীর চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে। আর চাকরি না থাকলে ভরণপোষণ দাবি করাও জটিল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের স্বামী আগে স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর একটি হেলমেট চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানহানির মামলাটি স্বামী নিজে না করে সহকর্মীর মাধ্যমে করিয়েছেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় বিচারপতি নাগারথনা স্ত্রীর আইনজীবীকে পরামর্শ দেন, তিনি যেন তার মক্কেলকে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দায়ের করা অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

বাঘায় বিদেশি পিস্তল সহ ইউপি সদস্যের স্ত্রী আটক

13 September 2026

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নাগরিকভাবনা ডেস্ক:   দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর কর্মস্থল বা নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ করা স্ত্রীর জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, এমন পদক্ষেপে স্বামীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভরণপোষণ বা খোরপোশের দাবিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সম্প্রতি বিচারপতি বি ভি নাগারথনা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, দাম্পত্য বিরোধের কারণে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা এক বিষয়, কিন্তু আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে জীবনসঙ্গীর জীবিকা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত করা আরও গুরুতর বিষয়।

মামলাটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, তার স্বামী চাকরির সেবা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তার এক সহকর্মী আসামের একটি আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে নারী মামলাটি গাজিয়াবাদে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। তার যুক্তি ছিল, স্বামীর বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলার শুনানি গাজিয়াবাদেই চলছে।

শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারথনা বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ করা এমন একটি পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত স্বামীর চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে। আর চাকরি না থাকলে ভরণপোষণ দাবি করাও জটিল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের স্বামী আগে স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর একটি হেলমেট চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানহানির মামলাটি স্বামী নিজে না করে সহকর্মীর মাধ্যমে করিয়েছেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় বিচারপতি নাগারথনা স্ত্রীর আইনজীবীকে পরামর্শ দেন, তিনি যেন তার মক্কেলকে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দায়ের করা অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন।

Share this news as a Photo Card