ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বংশানুক্রমে আধিপত্য নিয়ে শত বছর ধরে টেঁটা যুদ্ধ চলছে

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৭১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদী রায়পুরার চরাঞ্চলে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু ‘পক্ষে মধ্যে চলে টেঁটা যুদ্ধ।  রায়পুরার চরাঞ্চলের টেঁটা যুদ্ধ বন্ধের শেষ কোথায়? কেউ বলতে পারে না।  প্রায় এক শত বছর ধরে বংশানুক্রমে  ওই এলাকায় টেঁটা যুদ্ধ চলে আসছে। এক দল মানুষ যুগের পর যুগ  ধরে প্রতিপক্ষকে  ঘায়েল করতে টেঁটা যুদ্ধ করে আসছে।  রায়পুরার চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ বন্ধ করতে এলাকাবাসী, জনপ্রতিধি, প্রশাসন  মিলে অনেক বার  একাধিকবার বৈঠক করেও  এলাকার টেঁটা যুদ্ধের সমাধান করতে  পারেননি। নরসিংদী সদর ও  রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা চরবিস্তৃত ইউনিয়নে কিছুদিন পর পর টেঁটা  যুদ্ধ হয়। রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা, বাঁশগাড়ী, মির্জাচর ও পাহারতলী ইউনিয়নে টেঁটা যুদ্ধ বেশি  হয়।

নরসিংদী রায়পুরার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে টেঁটা ও বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলম ওরফে আলমগীর (২০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে  ১০ জন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে শুরু হয় আধিপত্য নিয়ে  সংঘর্ষ । এতে   দীঘলিয়াকান্দি ইউনিয়নের  জহর আলীর ছেলে  আলমগীর নিহত হন । আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল মাহমুদ এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ সহ রায়পুরা থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছায়।  দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান ও নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: কলিমুল্লাহ।

পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন , আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবরে জেলা পুুলিশ সহ ঘটনাস্থল আসি। পুরো এলাকা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রনে আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  বেশ কয়েকদিন যাবত এলাকা ছাড়া ছিলেন আশরাফুল হকের সমর্থকরা। এলাকায় ঢুকার খবরে শনিবার রাত থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। পরে  সকালে আশরাফুলের লোকজন এলাকায় ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয় প্রতিপক্ষ রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থকরা। এ সময় দুপক্ষের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎক আলম নামে একজনকে মৃত ঘোষনা করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদুল কবির বাসার গনমাধ্যমকে জানান , রায়পুরার বাঁশগাড়ী থেকে আলমগীর নামে একজনকে মৃত অবস্থায় ও রুবেল নামে আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানোর হয়েছে । আহত ব্যক্তির পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুরা চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ করে বন্ধ হবে কেউ বলতে পারেন  না। নরসিংদীর সচেতন মানুষ চায় চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ বন্ধ হোক। সচেতন মানুষ অনেক বার টেঁটা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করলেও সমস্যা সমাধান হয়নি।

 

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বংশানুক্রমে আধিপত্য নিয়ে শত বছর ধরে টেঁটা যুদ্ধ চলছে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদী রায়পুরার চরাঞ্চলে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু ‘পক্ষে মধ্যে চলে টেঁটা যুদ্ধ।  রায়পুরার চরাঞ্চলের টেঁটা যুদ্ধ বন্ধের শেষ কোথায়? কেউ বলতে পারে না।  প্রায় এক শত বছর ধরে বংশানুক্রমে  ওই এলাকায় টেঁটা যুদ্ধ চলে আসছে। এক দল মানুষ যুগের পর যুগ  ধরে প্রতিপক্ষকে  ঘায়েল করতে টেঁটা যুদ্ধ করে আসছে।  রায়পুরার চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ বন্ধ করতে এলাকাবাসী, জনপ্রতিধি, প্রশাসন  মিলে অনেক বার  একাধিকবার বৈঠক করেও  এলাকার টেঁটা যুদ্ধের সমাধান করতে  পারেননি। নরসিংদী সদর ও  রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা চরবিস্তৃত ইউনিয়নে কিছুদিন পর পর টেঁটা  যুদ্ধ হয়। রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা, বাঁশগাড়ী, মির্জাচর ও পাহারতলী ইউনিয়নে টেঁটা যুদ্ধ বেশি  হয়।

নরসিংদী রায়পুরার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে টেঁটা ও বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলম ওরফে আলমগীর (২০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে  ১০ জন।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে শুরু হয় আধিপত্য নিয়ে  সংঘর্ষ । এতে   দীঘলিয়াকান্দি ইউনিয়নের  জহর আলীর ছেলে  আলমগীর নিহত হন । আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল মাহমুদ এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ সহ রায়পুরা থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পৌঁছায়।  দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান ও নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: কলিমুল্লাহ।

পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন , আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবরে জেলা পুুলিশ সহ ঘটনাস্থল আসি। পুরো এলাকা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রনে আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  বেশ কয়েকদিন যাবত এলাকা ছাড়া ছিলেন আশরাফুল হকের সমর্থকরা। এলাকায় ঢুকার খবরে শনিবার রাত থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। পরে  সকালে আশরাফুলের লোকজন এলাকায় ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয় প্রতিপক্ষ রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থকরা। এ সময় দুপক্ষের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎক আলম নামে একজনকে মৃত ঘোষনা করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদুল কবির বাসার গনমাধ্যমকে জানান , রায়পুরার বাঁশগাড়ী থেকে আলমগীর নামে একজনকে মৃত অবস্থায় ও রুবেল নামে আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানোর হয়েছে । আহত ব্যক্তির পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুরা চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ করে বন্ধ হবে কেউ বলতে পারেন  না। নরসিংদীর সচেতন মানুষ চায় চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ বন্ধ হোক। সচেতন মানুষ অনেক বার টেঁটা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করলেও সমস্যা সমাধান হয়নি।