নৌকা ছিদ্রকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ১০৩ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে মাছ ধরার নৌকার তলা ছিদ্র করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পাশাপাশি উভয়পক্ষের প্রায় ১২টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আদালত প্রামাণিক, তার ছেলে জিসান প্রামাণিক, তাহের প্রামাণিকের ছেলে রাজিব ও রাকিব, হাসেম সরদারের ছেলে শুভ, আজমতের ছেলে রাহিম, শহীদ কাজীর ছেলে ছালাম কাজী, মিজানুর রহমান মন্টু, বিল্লাল হোসেন, শহীদ হোসেন, মনটু কাজী, ঝন্টু কাজী, জিন্দার শিকদার, সাইদুল শিকদার ও সাজেদা খাতুন। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা গ্রামে মন্টু কাজী ও আদালত প্রামাণিক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। কাজী গ্রুপের লোকজন নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি চাষাবাদ করেন। নদীতে তাদের বেশ কয়েকটি ডিঙি নৌকা রাখা ছিল।
শনিবার দুপুরে প্রামাণিক গ্রুপের সালাম কাজী, কাজী গ্রুপের পাঁচটি নৌকার তলা ছিদ্র করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কাজী গ্রুপের লোকজন সালামকে ধরে কিছুক্ষণ আটকে রাখেন, পরে ছেড়ে দেন। এরপর সালাম তার লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে কাজী পাড়ায় গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ মাথায়, কেউ হাতে-পিঠে আবার কেউ পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিকেল ৫টার দিকে কসবা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে, দুই পক্ষের লোকজন পৃথক স্থানে জড়ো হয়েছেন। বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট।
আদালত প্রামাণিক বলেন,“কাজী গ্রুপের লোকজন আমাদের ছেলেকে আটকে রেখেছিল। জানতে গেলে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালায় ও লুটপাট করে। আমাদের অন্তত সাতজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। থানায় মামলা করা হবে।”
অন্যদিকে, কাজী গ্রুপের জাদু কাজী বলেন,
“প্রামাণিকের লোকজন আমাদের নৌকা ছিদ্র করেছে। আমরা একজনকে আটক করেছিলাম, পরে ছেড়ে দেই। কিন্তু তারাই পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমাদের ১০-১২ জন আহত হয়েছে। থানায় মামলা করা হবে।”
প্রামাণিক গ্রুপের এক নারী অভিযোগ করেন,
“আমাদের লোকজন হাসপাতালে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গরু ও মালামাল লুট করেছে।”
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন,“মাছ ধরার নৌকা ছিদ্র করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে কসবা গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।


















