ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পুকুরে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আতঙ্কে ২০০ শিক্ষার্থী

আব্দুল হান্নান, ‎শাজাহানপুর (বগুড়া):   বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি আধাপাকা শ্রেণি ভবন পুকুরে ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ভবনের নিচের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ফাঁকা তৈরি হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক জীবনঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মনে প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
‎‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২১০ জন ছাত্রী এবং ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২০০০ সালে স্থানীয়দের অর্থায়নে পুকুর পাড় থেকে ৬ ফিট দূরত্বে চার কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে গাইড ওয়াল না থাকায় পুকুরের পানির টানে ভবনের তলদেশের মাটি ধসে গেছে। এই জরাজীর্ণ ভবনেই বাধ্য হয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে।
‎‎সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, “ভবনের নিচের মাটি নেই। ক্লাস করার সময় ভীষণ ভয় করে, মনে হয় যেকোনো সময় পুরো ঘর পুকুরে পড়ে যাবে।” অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “একটু বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে সাপ, জোঁকসহ ক্ষতিকারক পোকামাকড় ঢোকে। আতঙ্কের মধ্যে পড়ালেখায় মন দেওয়া সম্ভব হয় না।”
‎বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল বারী বলেন, “ভবনটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক। পুকুর মালিককে পাড় বাঁধার অনুরোধ করে কাজ না হওয়ায় ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ না করলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
‎অন্যদিকে, পুকুর মালিক আজিজার রহমান ড্রেনেজ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, “স্কুলের জায়গাটি আগে ধানক্ষেত ছিল। ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি শাহনগর হাটের পানিও এখানে জমে। ড্রেনেজ না থাকার কারণেই মাটি ধসছে।”
‎‎এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
‎‎শিক্ষার্থীদের জীবন সুরক্ষায় অবিলম্বে গাইড ওয়াল নির্মাণ অথবা নিরাপদ স্থানে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়
10 September 2026

পেকুয়ায় ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা: আসামী-১০

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

পুকুরে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আতঙ্কে ২০০ শিক্ষার্থী

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আব্দুল হান্নান, ‎শাজাহানপুর (বগুড়া):   বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি আধাপাকা শ্রেণি ভবন পুকুরে ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ভবনের নিচের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ফাঁকা তৈরি হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক জীবনঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মনে প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
‎‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২১০ জন ছাত্রী এবং ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২০০০ সালে স্থানীয়দের অর্থায়নে পুকুর পাড় থেকে ৬ ফিট দূরত্বে চার কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে গাইড ওয়াল না থাকায় পুকুরের পানির টানে ভবনের তলদেশের মাটি ধসে গেছে। এই জরাজীর্ণ ভবনেই বাধ্য হয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে।
‎‎সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, “ভবনের নিচের মাটি নেই। ক্লাস করার সময় ভীষণ ভয় করে, মনে হয় যেকোনো সময় পুরো ঘর পুকুরে পড়ে যাবে।” অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “একটু বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে সাপ, জোঁকসহ ক্ষতিকারক পোকামাকড় ঢোকে। আতঙ্কের মধ্যে পড়ালেখায় মন দেওয়া সম্ভব হয় না।”
‎বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল বারী বলেন, “ভবনটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক। পুকুর মালিককে পাড় বাঁধার অনুরোধ করে কাজ না হওয়ায় ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ না করলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
‎অন্যদিকে, পুকুর মালিক আজিজার রহমান ড্রেনেজ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, “স্কুলের জায়গাটি আগে ধানক্ষেত ছিল। ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি শাহনগর হাটের পানিও এখানে জমে। ড্রেনেজ না থাকার কারণেই মাটি ধসছে।”
‎‎এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
‎‎শিক্ষার্থীদের জীবন সুরক্ষায় অবিলম্বে গাইড ওয়াল নির্মাণ অথবা নিরাপদ স্থানে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা।

Share this news as a Photo Card