মোঃ শহিদুল ইসলাম সোহাগ, শরনখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের আইনজীবি সাবেক ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যার সাথে জড়িত দুই ভাইসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার এসব তথ্য জানান। এর আগে সোমবার ভোর রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগেরহাট আলীয়া মাদরাসা সড়ক এলাকার শেখ আবু দাউদের ছেলে শেখ মুরাদ (৪১) ও তার ভাই আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মৃত মোকসুদ আলীর ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং একই এলাকার মোঃ এসকেন্দার শেখের ছেলে শিপন শেখ (২৮)।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, হত্যাকান্ডের ৫০ ঘন্টার মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার নেতৃত্বদানকারী শেখ মুরাদ হত্যার শিকার আইনজীবি নিজাম উদ্দিন শান্ত‘র পূর্ব পরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন এক সাথে সময় কাটিয়েছেন। ঘটনার দিনও, তারা একসাথে ছিলেন। তাদের মধ্যে কোন বিশেষ বিষয় নিয়ে চরম মতভেদ তৈরি হয়েছিল। এই মতভেদের কারণেই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে আসামীরা। আসামীদের আদলতে সোপর্দের পরে রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অধিকতর তদন্তে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় হত্যার সাথে জড়িত ৫ জন ছিলেন। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা মামলা রয়েছে। অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর যে এলাকায় হত্যাকান্ড ঘটেছে, ওই এলাকায় সাড়াষি অভিযান চালানোর হুশিয়ারি দেন জানান পুলিশ সুপার। গেল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় ছুরিকাঘাত করে আইনজীবি নিজাম উদ্দিন শান্তকে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা।
শনিবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বাগেরহাট মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন শান্ত‘র স্ত্রী স্বপ্না বেগম। নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। তার এক স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 

















