সাইদুর রহমান, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিন ও রাতজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে বাসাবাড়িতে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা ও ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে দুর্ভোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলেও কোনো কোনো মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ পর্যন্ত বিল আসছে। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং বিল নিয়ে অভিযোগের যথাযথ সমাধান না পাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেয়েও কেন বাড়তি বিল পরিশোধ করতে হবে?
এর আগে মির্জাপুরের জামুরকী এলাকায় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে (সাবস্টেশন) ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। জনগণ চায় নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে মির্জাপুরের লোডশেডিং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বা ভুল বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং মির্জাপুরবাসী তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

সাইদুর রহমান, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) 


















