বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মানিক মিয়ার ৫৬তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / ১১৩ বার পঠিত

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;

হাসান মামুন, দক্ষিণাঞ্চল প্রতিবেদক :: সর্বস্তরের মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কালজয়ী সাংবাদিক, মোসাফির কলাম লেখক, স্বাধীনতা যুদ্ধের সামনের সারির কলম সৈনিক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী পিরোজপুরে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে রবিবার (১ জুন) সকালে ভান্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হাম, নাথ, আলোচনা সভা, মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনায়েত করিম খোকনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হালিম হাওলাদারের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান, মো. ওসমান গনি, মো. মুরাদ হোসেন জাহিদ, প্রভাষক মো. ওমর ফারুক,জোতী রায়, মো. বাইজিদ হোসেন, শিক্ষার্থী মীম আক্তার প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মো. নুরুল হক। এদিকে দুপুরে মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৃথক ভাবে অনুরূপ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনির হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,শিক্ষক শাহানাজ পারভিন, মোনালিমা এলিসান, মো. এমরান হোসেন জোমাদ্দার ও নিমাই চন্দ্র হালদার প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মো. ইউনুস আলী। অন্যদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার গ্রামের বাড়ি পূর্ব ভান্ডারিয় মরহুমের ভ্রাতুষপুত্রগণের আয়োজনে বাদ জোহর মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে কোরানখানি এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন কার¦ী মোস্তফা হোসাইন। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের মুসুল্লী ছাড়াও কমপ্লেক্স সংলংগ্ন বাইতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা, জামিআয়েতাজবিদুল কুরআন নূরাণীমাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র দোয়ায় শরিক হন। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোস্তফা হোসাইন। শেষে উপস্থিতিদের মাঝে বিশেষ তাবারক বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে বেসরকারি অরাজনৈতিক সামাজিক উন্নয়ন মূলক সংগঠন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গ্যালারির উদ্যোগে বাদ জোহর উত্তর পূর্ব-ভান্ডারিয়া মোল্লা ছোমের উদ্দিন জামে মসজিদে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল এবং দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ার অনুষ্ঠানে স্থানীয় জাতীয় পার্টি জেপি নেতা মো. হারুন অর রশিদ মোল্লা,মো. চান্দে আলী, স্থানীয় প্রবীণ সমাজসেবীসহ বিভিন্নস্তরের মুসুল্লীরা দোয়ায় শরিক হন। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোস্তফা হোসাইন।
পৃথকভাবে এ সকল স্থানে আলোচনা সভায় জেষ্ঠ্য বক্তারা বলেন, আমরা ভান্ডারিয়াবাসি অত্যন্ত গর্বিত। কারন এখানে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মত গুনি মাণুষের জন্ম। আমরা ভাগ্যবান। কারন আমরা তারই কণিষ্ঠ পুত্র সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার মা মহীয়সী মজিদা বেগমের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই কলেজে শিক্ষকতা করতে পারছি। তোমারাও ভাগ্যবান যে এই কলেজের শিক্ষার্থী হতে পেরেছে। এই কলেজের বহু শিক্ষার্থী পড়া-লেখা শেষ করে দেশ বিদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি,বেসরকারি পেশায় চাকুরি করছে। একজন নির্লোভ, নির্মোহ সাংবাদিক যে একটি স্বাধীনদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে তা মানিক মিয়া দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। বর্তমান সময়ে ইতিহাস বিকৃতির যে চর্চা শুরু হয়েছে সে বিষয়ে বর্তমান সময়ের সাংবাদিকদের অধীকতর সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি। এই ভান্ডারিয়ার ক্ষণজন্মা কৃতি সন্তান তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বিলাসি জীবণযাপন বাদ দিয়ে, এমনকি সরকারি চাকুরিও বাদ দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ বির্ণীমানের জন্য সাংবাদিক পেশায় কাজ শুরু করেন। ১৯৪৭,’৪৮,’৫২,’৬৬ এবং ৬দফাসহ সকল স্বাধীনতা সংগ্রামে জনমত গড়ার সামনের সারির নির্ভীক কলম সৈনিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ১৯৬৯এর আজকের এই দিনে (১জুন) পাকিস্তানের পিন্ডিতে তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে !! যার কারণ আজও অধরা !! হয়তো তোমরা মানিক মিয়ার মত হতে পারবে না। তবে তার জীবনাদর্শ অনুসরন করে স্বাধীনতা পরবর্তী একটি সুন্দর দেশ গড়ার কাজে যেন অংশ নিতে পার সে প্রত্যাশা রইল। পাশাপাশি এ প্রত্যাশাও রইল যে, পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে মানিক মিয়ার আপোষহীণ জীবন ও সংগ্রামের বিষয়ে স্কুল,কলেজের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার দ্বায়িত্ব তোমাদের নতুন প্রজন্মকে নিতে হবে।






















