বিপ্লব সাহা খুলনা
বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারকে পরিচালনা করছে ১০ টাকা দরের কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে একেবারে উচ্চপর্যায়ের বিদেশ আমদানি রপ্তানি পর্যন্ত আর সরকার জেনেশুনেই এই তকমা তাদের গায়ে লাগাচ্ছে ভ্রুক্ষেপ করছে না দেশের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক কূটনৈতিক ও সাধারণ জনগণের অভিযোগ।
বিশ্ব বাজারকে ছাপিয়ে দেশে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল, চিনি, সাথে মসলা নিম্ন থেকে উচ্চবিলাসী প্রসাধনী সামগ্রী স্বর্ণের দাম ওঠানামা করানো এমনকি দেশের পুঁজিবাজারেও রয়েছে এদের হস্তক্ষেপ আর এদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা করে দিচ্ছে বর্তমান সরকারের কতিপয় কিছু আমলা আর এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের অভিযোগ যে সকল আমলা ব্যক্তিবর্গগণ এদের সুবিধা করে দিচ্ছে তারা সাময়িক সময়ের জন্য দেশের ক্ষমতা আয়ত্তে নিয়ে নিজের আখের গোছানোর লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এই মধ্যস্বত্বভোগীদের সাথে অন্তরঙ্গ সখ্যতা গড়ে তুলে দেশের সকল শ্রেণীর জনগণদের অসুবিধায় ফেলে নিজেদের পকেট ভারি করছে, আর এদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলেও যেন বরফের গায়ে বাতাস লাগার শামিল হচ্ছে কর্ণপাত করছে না জনগণের কথা। আর এসব অসৎ সুবিধা ভোগিদের অবাধ বিচরণে জেগে ঘুমাচ্ছে সরকারের কতিপয় উপদেষ্টা পরিষদের ব্যক্তিরা।
এদিকে দেশের সাধারণ জনগণ নাকে কানে চুবানি খাচ্ছে, অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছে অধিকাংশ মানুষ, আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নাই, আবার এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার এ সকল ব্যক্তিরা অর্থাভাবে পারছে না উচুমানের ব্যবসা বা বিলাসী জীবন পার করতে না পারছে সম্মানের ভয়ে নিম্ন কাজ করতে এক কথায় যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হচ্ছে এদের জীবন।
পাশাপাশি স্বল্প আয়ের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ তো রয়েছে যাদের স্বপ্ন স্বাদ অনেক কিছু থাকলেও দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার-পরিজনের মুখে ঠিকমত আাহার জোগাড় করতে পারছে না আর এদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে মলিন।
এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত দুই শ্রেণীর মানুষের শাসকদের প্রতি বলিষ্ঠ অভিযোগ সরকারের ক্ষমতায় আসার আগে সর্বপ্রথম আমাদের নিয়ে চিন্তা করে কারণ আমাদের ভোট না হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না সেই ক্ষেত্রে তাই এই সরল মনা মানুষদের নিয়ে তারা নানাভাবে খেলা শুরু করে প্রতিশ্রুতি দেয় এই দুই শ্রেণীর মানুষদের পাশে যেন চির বান্ধব হয়ে থাকবে , আর এ সকল প্রতিশ্রুতি তখনই ভুলে যায় যখন এদেরই দেওয়া ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতার মসনদের রাজত্বের রাজভার গ্রহণ করে ব্যক্তিগত স্বপ্ন অবলিলায় উন্মাত্ত হয়ে যায় ।
বছর শেষে জুন মাস আসলে সরকার সংসদে বাজেট করে থাকে আর সেই বাজেটেও দেখা যায় উচ্চ বিলাসী পণ্যের দাম কমানো হয় আর ঐ সকল পণ্যের ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকিও দিয়ে থাকে কিন্তু নিত্যদিন সাধারন মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যর প্রতি যেন তাদের কোন নজর ই থাকে না পাগলা ঘোড়ার ন্যয় ছুটতে থাকে দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি কারণে নাভিশ্বাস ওঠে নিম্ন মধ্যম আয়ের সাধারণ মানুষের, আর এক্ষেত্রে কোনক্রমে ভ্রুক্ষেপ করেনা সরকার। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম আর এই ইলিশ মাছ চাষ করতে আলাদাভাবে কোন অর্থিক বিনিয়োগ করা লাগে না মাছের খাবার দেওয়া লাগেনা সার দেওয়া লাগেনা ঝাকে ঝাকে ধরা পড়ে জেলেদের জালে আর সব থেকে বড় কথাই ইলিশ মাছ আমাদের দেশের জাতীয় মাছ হওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েক বছর ধরে ইলিশ মাছ সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ ফলে দেশের মানুষের কাছে সাত সাধ্যের বাইরে থেকে যাচ্ছে এই মাছ, বড় কষ্টের কথা দেশের মানুষকে অভুক্ত রেখে আসলে একটি দেশ সহ অন্যান্য দেশের সরকারের সাথে স্বজন প্রীতি বজায় রাখতে হাজার হাজার টন মাছ অভুক্ত মানুষদের নাকের ডগা দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে। আর সরকারের এসকল কীর্তিকলাপ চুপ করে দেখা ছাড়া কোন উপায় নাই।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















