ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ইসলামপুরে ব্যতিক্রমী আয়োজন

মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন আব্দুস সালাম

‎আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর):   ‎​সাধারণত মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ‘চল্লিশা’ বা কুলখানির আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ঘটলো এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। মৃত্যুর পর নয়, বরং জীবিত অবস্থায় নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুস সালাম। নিজের শেষ ইচ্ছা পূরণের আনন্দে প্রায় দুই হাজার মানুষকে খাওয়ালেন জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘মিল্লি ভাত’।

‎‎​বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ইসলামপুর উপজেলায় এই অভাবনীয় ও ব্যতিক্রমী ভোজের আয়োজন করা হয়। এদিন প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সালামের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তিনি জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন নিজের হাতে করে যাবেন। মৃত্যুর পর আপনজনরা এই আয়োজন করবে কি না বা করলেও কেমন হবে, সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ইচ্ছা পূরণে প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য এই বিশাল ভোজের ব্যবস্থা করেন তিনি।

‎‎​আয়োজনে খাবারের তালিকায় ছিল জামালপুর অঞ্চলের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি ভাত’ (গরু বা খাসির মাংসের সাথে চাল ও ডালের সংমিশ্রণে তৈরি বিশেষ খাবার)। বৃষ্টিস্নাত দিনে সুস্বাদু এই ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে দুপুর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান আমন্ত্রিত অতিথি ও এলাকাবাসী। প্রচণ্ড বৃষ্টিও তাঁদের উপস্থিতিতে ভাটা ফেলতে পারেনি।

‎‎​এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পর্কে আব্দুস সালাম বলেন, “মৃত্যুর পর কে কী করবে তা তো আর আমি নিজ চোখে দেখে যেতে পারব না। তাই আমার খুব ইচ্ছা ছিল, আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি যেন নিজের হাতেই আমার চল্লিশার খাবার মানুষকে খাইয়ে যেতে পারি। আজ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। মানুষকে নিজের হাতে খাওয়াতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও তৃপ্ত।”

‎এলাকাবাসী জানান, জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার এমন আয়োজন সত্যিই বিরল। বৃষ্টির মধ্যেও এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে মানুষ এই আয়োজনকে কতটা কৌতূহল ও আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি বর্তমানে পুরো ইসলামপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

ডিমলায় সীমান্তে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ যুবক আটক

22 September 2026

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ইসলামপুরে ব্যতিক্রমী আয়োজন

মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন আব্দুস সালাম

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০২:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

‎আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর):   ‎​সাধারণত মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ‘চল্লিশা’ বা কুলখানির আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ঘটলো এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। মৃত্যুর পর নয়, বরং জীবিত অবস্থায় নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুস সালাম। নিজের শেষ ইচ্ছা পূরণের আনন্দে প্রায় দুই হাজার মানুষকে খাওয়ালেন জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘মিল্লি ভাত’।

‎‎​বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ইসলামপুর উপজেলায় এই অভাবনীয় ও ব্যতিক্রমী ভোজের আয়োজন করা হয়। এদিন প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সালামের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তিনি জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন নিজের হাতে করে যাবেন। মৃত্যুর পর আপনজনরা এই আয়োজন করবে কি না বা করলেও কেমন হবে, সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ইচ্ছা পূরণে প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য এই বিশাল ভোজের ব্যবস্থা করেন তিনি।

‎‎​আয়োজনে খাবারের তালিকায় ছিল জামালপুর অঞ্চলের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি ভাত’ (গরু বা খাসির মাংসের সাথে চাল ও ডালের সংমিশ্রণে তৈরি বিশেষ খাবার)। বৃষ্টিস্নাত দিনে সুস্বাদু এই ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে দুপুর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান আমন্ত্রিত অতিথি ও এলাকাবাসী। প্রচণ্ড বৃষ্টিও তাঁদের উপস্থিতিতে ভাটা ফেলতে পারেনি।

‎‎​এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পর্কে আব্দুস সালাম বলেন, “মৃত্যুর পর কে কী করবে তা তো আর আমি নিজ চোখে দেখে যেতে পারব না। তাই আমার খুব ইচ্ছা ছিল, আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি যেন নিজের হাতেই আমার চল্লিশার খাবার মানুষকে খাইয়ে যেতে পারি। আজ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। মানুষকে নিজের হাতে খাওয়াতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও তৃপ্ত।”

‎এলাকাবাসী জানান, জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার এমন আয়োজন সত্যিই বিরল। বৃষ্টির মধ্যেও এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে মানুষ এই আয়োজনকে কতটা কৌতূহল ও আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি বর্তমানে পুরো ইসলামপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card