অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড অ্যামুনিশন (গুলি) এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে র্যাব-৫, রাজশাহী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মালিকানা কিংবা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা যায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় বাহিনীটি নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাব-৫-এর সদর কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দল রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন হাজরা পুকুরপাড় রেলওয়ে মাঠের উত্তর পাশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে একটি নির্জন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড অ্যামুনিশন এবং একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনকে পাওয়া যায়নি।
অস্ত্র উদ্ধারের পর র্যাব সদস্যরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অস্ত্রগুলোর মালিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় কেউই উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বা গোলাবারুদের প্রকৃত মালিক কিংবা এগুলো সেখানে কীভাবে এসেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
র্যাবের প্রাথমিক ধারণা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টির বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলোর উৎস, কী উদ্দেশ্যে এগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় উদঘাটনে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড অ্যামুনিশন এবং ম্যাগাজিন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

অপু দাস, রাজশাহী 



















