ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দখল করে বহুতল আবাসিক ভবন ও দোকান 

মাহবুব  হোসেন রনি , রায়পুর-(লক্ষ্মীপুর)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৭২ বার পঠিত
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল আবাসিক ভবন ও দোকান। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই সব ভবন ও দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
 এতে মহাসড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় চলাচলকারি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। কোনো কোনো সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য জেলা সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগও দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু স্থাপনাগুলো অপসারণে নেওয়া হচ্ছেনা কোনো ব্যবস্থা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সড়কগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুর চাঁদপুর মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে এসকেরাব     ব্যাবসায়ী মানিক মিয়ার আবাসিক বহুতল ভবন ও অন্যদের দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো ভাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। একইভাবে সরকারি হাসপাতালের সামনে, থানার সামনে, লেংড়া বাজার মোড়, পানপাড়া সড়ক, শহরের পুরো শহীদ মিনার থেকে মীরগন্জ রোড, ট্রাফিক মোড় থেকে কাপিলা তুলি রোড, হায়দরগন্জ সড়কের দু’পাশে শতাধিক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, এতে সড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সব সড়কে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যানবাহন ঢুকতে গিয়ে আটকে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
লেংড়াবাজার এলাকার বাসিন্দা লোকমান ও  বলেন, তাঁদের পানপাড়া সড়কটির দশটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত। তাঁর ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় সড়কটি সরু হয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বোয়াডার বাজারের মোঃ আমিন বলেন, চাঁদপুর সড়ক খুবই গুরুত্বপুর্ণ। স্থানীয় প্রভাবশালিরা সড়কের দুই পাশে যে যার মত করে জায়গা দখল করে আবাসিক ভবন ও দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথ দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে সড়কের জায়গা দখলদার মানিক মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, চাঁদপুর সড়কে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়নি। এটা আমার কেনা জায়গা।পৌরসভার প্রকৌশলী ঠিক করে দিয়েছেন। আপনি পরে দেখা করিয়েন। অন্যদিকে কারা দখলদার কিংবা ভাড়া দিচ্ছেন তাও জানা নেই।
মীরগন্জ সড়কের পৌরসভা অংশের ড্রেনের ঢাকনাও চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি লোহার ঢাকনা খুলে নিয়ে যায় চোর চক্র। আবার সেখানে ঢাকনা স্থাপন করা হলে তাও চুরি হয়। এর পর আর সেখানে ঢাকনা লাগানো হয়নি। ফলে ব্যস্ত সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
স্থানীয় একটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষী মাহবুব বলেন, প্রায় রাতেই একদল মাদকাসক্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে এসে হইচই করে। ওই দলটি এই চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার নির্বাহী (সচিব) মাসুদ মোর্শেদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠা কোন কোন সড়ক পৌরসভার আওতায়। এগুলো উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তবে কিছু সড়ক শহরের মধ্যে হলেও অন্য সরকারি দপ্তরের। যে কারণে ওইগুলো উদ্ধারে যে জটিলতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সড়কের ড্রেনের ঢাকনা চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথের উপবিভাগী প্রকৌশলী মোঃ আমির হোসেন বলেন, আমাদের কয়েকটি অভিযোগ আসছে।
সদরের কয়েকটি সড়কে দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। পর্যাক্রমে রায়পুর সহ সবগুলো স্থাপনা ভাঙ্গার কাজ শুরু হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দখল করে বহুতল আবাসিক ভবন ও দোকান 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল আবাসিক ভবন ও দোকান। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই সব ভবন ও দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
 এতে মহাসড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় চলাচলকারি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। কোনো কোনো সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য জেলা সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগও দিয়েছেন অনেকে। কিন্তু স্থাপনাগুলো অপসারণে নেওয়া হচ্ছেনা কোনো ব্যবস্থা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সড়কগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুর চাঁদপুর মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে এসকেরাব     ব্যাবসায়ী মানিক মিয়ার আবাসিক বহুতল ভবন ও অন্যদের দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো ভাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। একইভাবে সরকারি হাসপাতালের সামনে, থানার সামনে, লেংড়া বাজার মোড়, পানপাড়া সড়ক, শহরের পুরো শহীদ মিনার থেকে মীরগন্জ রোড, ট্রাফিক মোড় থেকে কাপিলা তুলি রোড, হায়দরগন্জ সড়কের দু’পাশে শতাধিক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, এতে সড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সব সড়কে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যানবাহন ঢুকতে গিয়ে আটকে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
লেংড়াবাজার এলাকার বাসিন্দা লোকমান ও  বলেন, তাঁদের পানপাড়া সড়কটির দশটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গর্ত। তাঁর ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় সড়কটি সরু হয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বোয়াডার বাজারের মোঃ আমিন বলেন, চাঁদপুর সড়ক খুবই গুরুত্বপুর্ণ। স্থানীয় প্রভাবশালিরা সড়কের দুই পাশে যে যার মত করে জায়গা দখল করে আবাসিক ভবন ও দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথ দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে সড়কের জায়গা দখলদার মানিক মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, চাঁদপুর সড়কে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়নি। এটা আমার কেনা জায়গা।পৌরসভার প্রকৌশলী ঠিক করে দিয়েছেন। আপনি পরে দেখা করিয়েন। অন্যদিকে কারা দখলদার কিংবা ভাড়া দিচ্ছেন তাও জানা নেই।
মীরগন্জ সড়কের পৌরসভা অংশের ড্রেনের ঢাকনাও চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি লোহার ঢাকনা খুলে নিয়ে যায় চোর চক্র। আবার সেখানে ঢাকনা স্থাপন করা হলে তাও চুরি হয়। এর পর আর সেখানে ঢাকনা লাগানো হয়নি। ফলে ব্যস্ত সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
স্থানীয় একটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষী মাহবুব বলেন, প্রায় রাতেই একদল মাদকাসক্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে এসে হইচই করে। ওই দলটি এই চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার নির্বাহী (সচিব) মাসুদ মোর্শেদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠা কোন কোন সড়ক পৌরসভার আওতায়। এগুলো উচ্ছেদ করে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তবে কিছু সড়ক শহরের মধ্যে হলেও অন্য সরকারি দপ্তরের। যে কারণে ওইগুলো উদ্ধারে যে জটিলতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সড়কের ড্রেনের ঢাকনা চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথের উপবিভাগী প্রকৌশলী মোঃ আমির হোসেন বলেন, আমাদের কয়েকটি অভিযোগ আসছে।
সদরের কয়েকটি সড়কে দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। পর্যাক্রমে রায়পুর সহ সবগুলো স্থাপনা ভাঙ্গার কাজ শুরু হবে।