আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর): জামালপুরের ইসলামপুরে অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করার নামে ‘স্বর্ণের পানি’ দিয়ে গোসলের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৭ জুলাই রাতে টাঙ্গাইল ও সাভার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো— ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার মৃত দানেছ মিয়ার ছেলে মো. হাসমত প্রকাশ ছদ্মনাম মনির (৪৫) এবং ঢাকার সাভারের মৃত সরব আলীর ছেলে মো. বাকুল (৬১)।
ইসলামপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা এলাকার মো. হেলাল মন্ডল (৫০) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। গত ৪ জুলাই দুপুরে তার বাড়িতে দুজন অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের ‘কবিরাজ’ পরিচয় দিয়ে হাজির হয়। তারা একে অপরকে ‘মনির’ ও ‘হিন্দু বাবা’ বলে সম্বোধন করছিল। প্রতারকরা রোগীর স্ত্রীকে জানায়, ১ ভরি ৪ আনা স্বর্ণের পানি দিয়ে গোসল করালে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।
সরল বিশ্বাসে রোগীর স্ত্রী ও সন্তান তাদের গহনা (১ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ) দিলে প্রতারকরা তা একটি পাতিলের ভেতর রাখে। পরবর্তীতে কৌশলে স্বর্ণ সরিয়ে সেখানে কয়েকটি পাথর রেখে দেয় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, পরদিন সকালের আগে পাতিল খোলা যাবে না। পরদিন সকালে পাতিল খুলে ভুক্তভোগীরা দেখতে পান ভেতরে কোনো স্বর্ণ নেই, আছে কেবল ৭/৮টি পাথর। আত্মসাৎকৃত স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. জিল্লুর রহমান তদন্তভার গ্রহণ করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে প্রধান আসামি হাসমতকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভার থেকে বাকুলকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, তারা সারা দেশে ঘুরে ঘুরে তাবিজ, কবজ ও কবিরাজির নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসা পেশাদার প্রতারক।
শনিবার (১৮ জুলাই) আসামিদের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জামালপুরে প্রেরণ করেছে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের লক্ষ্যে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) 



















