মোঃ মজনু মিয়া, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের কিশামত চেরেঙ্গার মুচির বাড়ীর পাশে একটি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় শহর রক্ষা বাঁধ ও আশপাশের জনপদ। ভাঙ্গন প্রবণ এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা হলে তারা প্রতিবেদককে জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এটা দুঃখজনক।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, ভাঙনকবলিত ওই এলাকাটি ইতিমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে জিও ব্যাগ ও কংক্রিটের ব্লক ফেলার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো স্থায়ী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই সেই ভাঙনপ্রবণ স্থান থেকেই ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এব্যাপারে তরুণ সমাজসেবক ও হোসেনপুর ইউনিয়ন জামায়াত নেতা রবিউল ইসলাম বিদ্যুত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমি ইতিমধ্যেই ইউএনও মহোদয়কে বালু উত্তোলনে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছি। এই প্রেক্ষিতে তিনি জানান, সরকারি ভাবে কিছু মাটির প্রয়োজন। সেই মাটির জন্য নাকি বালু তোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক সাংবাদিকের বরাতে জানা যায়, ঐ নদী থেকে বালু উত্তোলন করে এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন এসএম হাইস্কুল মাঠ বালু ভরাটের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ সেই অর্থ ব্যয় না করে জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এই ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদূদের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ভাবে কিছু মাটি বালুর প্রয়োজন। তবে ভাঙনপ্রবণ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। নিয়মনীতি অমান্য করে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ মজনু মিয়া, গাইবান্ধা 


















