
শাহ্ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর): শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন বিভিন্ন বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা। তাদের দাবি, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা কৃষি অফিসের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও নিয়মিতভাবে বাজার ও ডিলার পর্যায়ে তদারকি করছে। বিসিআইসি সভাপতি একেএম রুহুল আমিন কালাম বলেন, উপজেলায় বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ম মেনে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। সংকটের কোনো কারণ নেই। বিএডিসি সভাপতি মো. আঃ রাজ্জাক বলেন, বিএডিসির আওতাধীন ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার রয়েছে। কৃষকরা নিয়ম অনুযায়ী সার পাচ্ছেন এবং নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। বিসিআইসি ডিলার বিজয় এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার এরাশাদ আলম জর্জ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত সার দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
বিসিআইসি ডিলার মলি এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার বলেন, আমাদের কাছেও পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। বিএডিসি ডিলার সুদীপ এন্টারপ্রাইজের মাজহারুল ইসলাম মঞ্জিল বলেন, সার নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের কৃষক শাহজামাল বলেন, এবার সারের কোনো সংকট নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছি এবং সরকারি নির্ধারিত ন্যায্য দামেই সার কিনতে পারছি। এতে আমরা কৃষকরা স্বস্তিতে আছি। সিংগাবড়ুনা ইউনিয়নের মো: মোস্তফা বলেন, ধানের মৌসুমে জমিতে সারের প্রয়োজন বেশি থাকে। এবার সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে। বাজারেও সারের সংকট নেই এবং ন্যায্য দামেই সার কিনতে পারছি।
গড়জরিপা ইউনিয়নের কৃষক সাহাবুদ্দিন বলেন, আগের তুলনায় এবার সার নিয়ে আমাদের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না। ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছি এবং নির্ধারিত দামেই কিনতে পারছি। এতে চাষাবাদ করতে আমাদের সুবিধা হচ্ছে। শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, শ্রীবরদীতে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকরা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে তদারকি করা হচ্ছে। ডিলারদের মজুত, সার বিতরণ এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির বিষয়গুলোও নজরদারির আওতায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে সার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সারের বাজার ও ডিলারদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোথাও যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ডিলারদের দাবি, আমন মৌসুমে শ্রীবরদীতে সার সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শাহ্ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) 











