ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্র রক্ষার প্রধান শর্ত: ড.বদিউল আলম

অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮২ বার পঠিত
অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর হোটেল ওয়ারিশানে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন ও রাজনীতিতে কালো টাকার প্রভাব ভয়াবহভাবে বেড়েছে। পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি এখন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত, ত্যাগী ও যোগ্য নেতারাও অর্থের জোগান দিতে না পারায় মনোনয়ন পাচ্ছেন না। বিপরীতে, অর্থ ও প্রভাবশালী শক্তির জোরে অযোগ্য ব্যক্তিরা মনোনয়ন পাচ্ছেন। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের দুর্নীতি ও অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করতে হবে। অতীতে নির্বাচন কমিশনের অনেক সদস্য সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. বদিউল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যেই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। এর ফলেই শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি করা হয়, যার ফলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত। সে সময় জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্র রক্ষার প্রধান শর্ত: ড.বদিউল আলম

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস,স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর হোটেল ওয়ারিশানে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন ও রাজনীতিতে কালো টাকার প্রভাব ভয়াবহভাবে বেড়েছে। পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি এখন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত, ত্যাগী ও যোগ্য নেতারাও অর্থের জোগান দিতে না পারায় মনোনয়ন পাচ্ছেন না। বিপরীতে, অর্থ ও প্রভাবশালী শক্তির জোরে অযোগ্য ব্যক্তিরা মনোনয়ন পাচ্ছেন। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের দুর্নীতি ও অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করতে হবে। অতীতে নির্বাচন কমিশনের অনেক সদস্য সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. বদিউল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যেই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। এর ফলেই শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি করা হয়, যার ফলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত। সে সময় জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।