ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টোর থেকে রেললাইন পাচার, ইনচার্জ সুলতান মৃধা গ্রেফতার

মো: সিয়াম রানা, নীলফামারী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • / ৩৬ বার পঠিত

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে পিডাব্লিউ (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পথ) অফিসের স্টোর থেকে রেললাইন পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইনচার্জ সুলতান মৃধাকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুর ৩টার দিকে তাকে তার অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে ঘটনাটির সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশের পর রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায়।

রাতের আঁধারে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করে স্টোরে সংরক্ষিত রেললাইন কেটে দুইটি পিকআপে করে পাচার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক জাকির হোসেন ও শাহজাহান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবরটি প্রকাশের পর তদন্তে নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান মৃধা অপরাধ স্বীকার করেন, তবে কারা রেললাইনগুলো কিনেছে এবং কোথায় নিয়ে গেছে সে বিষয়ে তিনি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। মামলাটি সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় দায়ের করা হবে।

পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম জানান, স্টোর থেকে গ্যাস কাটার যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুলতান মৃধাকে প্রাথমিকভাবে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরএনবি’র ইনস্পেক্টর হাসান শিহাবুল ইসলাম বলেন, সুলতান মৃধা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোষ স্বীকার করেছেন এবং মামলা দায়েরের পর পাচার হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি মাহামুদ-উন-নবী জানান, আসামিকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।

উল্লেখ্য, সুলতান মৃধা দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপুর পিডাব্লিউ অফিসে দায়িত্বে থেকে একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি রেলওয়ে শ্রমিকলীগের ওপেন লাইন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং রেলওয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় বারবার অপকর্ম করেও রক্ষা পেয়ে যান। চুরিসহ নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারিতেও তার নাম জড়িয়েছে। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। তার চাকরির মেয়াদ ছিল আর মাত্র ৬ মাস। তার গ্রেফতারের ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টোর থেকে রেললাইন পাচার, ইনচার্জ সুলতান মৃধা গ্রেফতার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে পিডাব্লিউ (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পথ) অফিসের স্টোর থেকে রেললাইন পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইনচার্জ সুলতান মৃধাকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুর ৩টার দিকে তাকে তার অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে ঘটনাটির সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশের পর রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায়।

রাতের আঁধারে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করে স্টোরে সংরক্ষিত রেললাইন কেটে দুইটি পিকআপে করে পাচার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক জাকির হোসেন ও শাহজাহান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবরটি প্রকাশের পর তদন্তে নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান মৃধা অপরাধ স্বীকার করেন, তবে কারা রেললাইনগুলো কিনেছে এবং কোথায় নিয়ে গেছে সে বিষয়ে তিনি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। মামলাটি সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় দায়ের করা হবে।

পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম জানান, স্টোর থেকে গ্যাস কাটার যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুলতান মৃধাকে প্রাথমিকভাবে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরএনবি’র ইনস্পেক্টর হাসান শিহাবুল ইসলাম বলেন, সুলতান মৃধা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোষ স্বীকার করেছেন এবং মামলা দায়েরের পর পাচার হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অন্যান্য জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি মাহামুদ-উন-নবী জানান, আসামিকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।

উল্লেখ্য, সুলতান মৃধা দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপুর পিডাব্লিউ অফিসে দায়িত্বে থেকে একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি রেলওয়ে শ্রমিকলীগের ওপেন লাইন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং রেলওয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় বারবার অপকর্ম করেও রক্ষা পেয়ে যান। চুরিসহ নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারিতেও তার নাম জড়িয়েছে। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। তার চাকরির মেয়াদ ছিল আর মাত্র ৬ মাস। তার গ্রেফতারের ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।