ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

হলুদ ঝরা পাতার গল্প, বিষাদ নাকি আশার আলো

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / ১০৪ বার পঠিত

তারিফুল ইসলাম ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: রাবি ঝরা পাতার মর্ম একমাত্র গাছই বোঝে। সারা বছর সবুজে ঢাকা, প্রাণময় হয়ে ওঠা গাছ যখন নিজের পাতাগুলোকে বিদায় জানায়, তখন প্রকৃতিতে বয়ে যায় এক অনন্য সৌন্দর্যের স্রোত। সেই হলুদ রঙা পাতারা যেন প্রকৃতির এক বিষণ্ন কবিতা, যা বাতাসের কারণে ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। শীতের বিদায়ী বার্তা নিয়ে আসে এই হলুদ পাতাগুলো।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, বর্ষার টানা বৃষ্টি, শরৎ-এর নিস্তব্ধ আকাশ, হেমন্তের বাতাস, আর শীতের তুমুল কুয়াশা পেরিয়ে বসন্তকালে যখন প্রকৃতি একটু শান্ত হয়, তখন গাছ তার পুরনো পোশাক বদলানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ধীরে ধীরে সবুজ থেকে হলুদ, তারপর শুকিয়ে ঝরে যাওয়া—এই চক্র প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই অংশের বহু বছর ধরে সাক্ষী হয়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। প্রতি বছর বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথেই দেখা মিলবে ঝরা পাতার লালগালিচা। এছাড়াও ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে চলার পথেই অনুভব করে ঝরা পাতার সংবর্ধনা।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ছাড়াও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন রাস্তায় ঝরা পাতা পরে রাস্তার দু-ধারে জমা হয়ে আছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের দক্ষিণ পাশের মেহগনি বাগানেও পরে আছে অনেক ঝরা পাতা। এছাড়া ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন রাস্তার ধারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও মাঠে হলুদ পাতার আবরণ এক ধরনের নস্টালজিয়া তৈরি করে। ঝরা পাতার সৌন্দর্য শুধু দৃষ্টিতেই নয়, মনেও এক অনন্য অনুভূতি এনে দেয়। সব জায়গাতেই মনে হয়, সময়ের ঘড়ি কিছুক্ষণ থমকে গেছে, প্রকৃতি এক মুহূর্তের জন্য নিঃশব্দ হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই ঝরা পাতারা নিছকই বিদায়ের প্রতীক না, তারা নতুন কিছুর আগমনী বার্তাও বহন করে। যে গাছ আজ তার পাতাগুলোকে বিদায় জানাচ্ছে, কয়েক মাস পর সেই গাছই আবার নতুন কুঁড়ির জন্ম দেবে। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানায়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ হোসাইন বলেন, পৃথিবীর নিয়ম এমন যে, একটি গুষ্টির বিদায় নিবে, নতুন করও উপর দায়িত্ব বর্তাবে। হোক তা ঝরা পাতা বা কোনো এক সাম্রাজ্য। আমরা প্রতিবছরই দেখি বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গাছের একটি অংশের পাতা ঝরে যায়। এই হলুদ পাতাগুলো বিষাদ নিয়ে ঝরে গেলেও প্রকৃতিকে দিয়ে যায় এক অনন্যময় রূপ।

স্বাগত জানানো পাতার বর্ণনা দিয়ে নাঈমা জান্নাত নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি যখন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামন দিয়ে হাঁটি, তখন ঝরা পাতাগুলো আমাকে স্বাগত জানায়। তখন আমার মনে হয় এক মহা মঞ্চে আমায় লালগালিচার সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। যদিও তারা দুঃখ নিয়ে ঝরে যায় তবে আমাদের কাছে তৈরি করে এক অনন্যময় প্রকৃতি। তাই বলা যায়, হলুদ ঝরা পাতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক জীবনদর্শন। জীবনেও তো ঠিক এমনই ঘটে—পুরনো স্মৃতি, ব্যর্থতা, দুঃখ সব ঝরে পড়ে, আর তার জায়গায় আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশার আলো। তাই ঝরা পাতার মর্ম শুধুই বিষাদ নয়, বরং এক নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

হলুদ ঝরা পাতার গল্প, বিষাদ নাকি আশার আলো

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

তারিফুল ইসলাম ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: রাবি ঝরা পাতার মর্ম একমাত্র গাছই বোঝে। সারা বছর সবুজে ঢাকা, প্রাণময় হয়ে ওঠা গাছ যখন নিজের পাতাগুলোকে বিদায় জানায়, তখন প্রকৃতিতে বয়ে যায় এক অনন্য সৌন্দর্যের স্রোত। সেই হলুদ রঙা পাতারা যেন প্রকৃতির এক বিষণ্ন কবিতা, যা বাতাসের কারণে ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। শীতের বিদায়ী বার্তা নিয়ে আসে এই হলুদ পাতাগুলো।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, বর্ষার টানা বৃষ্টি, শরৎ-এর নিস্তব্ধ আকাশ, হেমন্তের বাতাস, আর শীতের তুমুল কুয়াশা পেরিয়ে বসন্তকালে যখন প্রকৃতি একটু শান্ত হয়, তখন গাছ তার পুরনো পোশাক বদলানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ধীরে ধীরে সবুজ থেকে হলুদ, তারপর শুকিয়ে ঝরে যাওয়া—এই চক্র প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই অংশের বহু বছর ধরে সাক্ষী হয়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। প্রতি বছর বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথেই দেখা মিলবে ঝরা পাতার লালগালিচা। এছাড়াও ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে চলার পথেই অনুভব করে ঝরা পাতার সংবর্ধনা।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ছাড়াও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন রাস্তায় ঝরা পাতা পরে রাস্তার দু-ধারে জমা হয়ে আছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের দক্ষিণ পাশের মেহগনি বাগানেও পরে আছে অনেক ঝরা পাতা। এছাড়া ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন রাস্তার ধারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও মাঠে হলুদ পাতার আবরণ এক ধরনের নস্টালজিয়া তৈরি করে। ঝরা পাতার সৌন্দর্য শুধু দৃষ্টিতেই নয়, মনেও এক অনন্য অনুভূতি এনে দেয়। সব জায়গাতেই মনে হয়, সময়ের ঘড়ি কিছুক্ষণ থমকে গেছে, প্রকৃতি এক মুহূর্তের জন্য নিঃশব্দ হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই ঝরা পাতারা নিছকই বিদায়ের প্রতীক না, তারা নতুন কিছুর আগমনী বার্তাও বহন করে। যে গাছ আজ তার পাতাগুলোকে বিদায় জানাচ্ছে, কয়েক মাস পর সেই গাছই আবার নতুন কুঁড়ির জন্ম দেবে। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানায়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ হোসাইন বলেন, পৃথিবীর নিয়ম এমন যে, একটি গুষ্টির বিদায় নিবে, নতুন করও উপর দায়িত্ব বর্তাবে। হোক তা ঝরা পাতা বা কোনো এক সাম্রাজ্য। আমরা প্রতিবছরই দেখি বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গাছের একটি অংশের পাতা ঝরে যায়। এই হলুদ পাতাগুলো বিষাদ নিয়ে ঝরে গেলেও প্রকৃতিকে দিয়ে যায় এক অনন্যময় রূপ।

স্বাগত জানানো পাতার বর্ণনা দিয়ে নাঈমা জান্নাত নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি যখন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামন দিয়ে হাঁটি, তখন ঝরা পাতাগুলো আমাকে স্বাগত জানায়। তখন আমার মনে হয় এক মহা মঞ্চে আমায় লালগালিচার সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। যদিও তারা দুঃখ নিয়ে ঝরে যায় তবে আমাদের কাছে তৈরি করে এক অনন্যময় প্রকৃতি। তাই বলা যায়, হলুদ ঝরা পাতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক জীবনদর্শন। জীবনেও তো ঠিক এমনই ঘটে—পুরনো স্মৃতি, ব্যর্থতা, দুঃখ সব ঝরে পড়ে, আর তার জায়গায় আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশার আলো। তাই ঝরা পাতার মর্ম শুধুই বিষাদ নয়, বরং এক নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি।