
রাজ্জাক বিশ্বাস: কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করার পূর্বপরিকল্পনায় ‘গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা (আলটিমেটাম) দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আমির হামজা এই অভিযোগ করেন। হামলা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রতিবাদে আজ বিকেলেই কুষ্টিয়া শহরজুড়ে দলীয় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এমপি আমির হামজা প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন
সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার: হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ অধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
জিরো টলারেন্স নীতি: স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে সব ধরনের রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এমপি আমির হামজা বলেন, ‘এই জেলার প্রশাসন নিষ্ক্রিয় এবং ব্যর্থ। এই জেলার যারা দায়িত্বে আছে, প্রশাসনে যে যেখানে দায়িত্বে আছে, সব ব্যর্থ। এদের দ্বারা নিরাপত্তা পাবার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই।’
এদিকে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এই এজাহার হস্তান্তর করেন।
এজাহারে গণ অধিকার পরিষদের ২৩ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্তসহ মামলা রুজুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 
























