“পুরনো স্থাপনা আর ইতিহাস-ঐতিহ্যের পূর্ন দক্ষিণবঙ্গের হযরত খানজাহান আলী একটি অতি পরিচিত নাম”

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
- / ১২৩ বার পঠিত

পুরনো স্থাপনা আর ইতিহাস-ঐতিহ্যের পূর্ন দক্ষিণবঙ্গের হযরত খানজাহান আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নামেই বেশি পরিচিত। যশোর-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা ও বরিশালের কিছু অংশ নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন একটি রাজ্য। এ রাজ্যের নাম ছিল ‘খলিফাতাবাদ’। হজরত খানজাহান আলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রতিষ্ঠিত রাজ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন – হযরত খানজাহান আলী (রহ:) একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক, সুফি ও আউলিয়া ছিলেন। ইসলামের সমস্ত বৈরী শক্তির মোকাবেলায় ঝড়ের বেগে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন, ইসলামের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং জনহিতকর কার্যে সারাজীবন অতিবাহিত করেছিলেন। খান জাহান আলী নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম শের খান, কিশওয়ার বা কেশর খান। তিনি উলুঘ খান কিংবা খান-ই-আজম নামেও বেশ পরিচিত। ইসলাম প্রচার, ইসলামী ভাবধারার প্রচলন ও ইসলামী সমাজবিধি প্রচলনে তিনি ছিলেন অন্যতম পথিক। তিনি নিজে ইসলাম প্রচার করার সাথে সাথে বিভিন্ন শিষ্য-সাগরিদদেরকে বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচারের জন্যে প্রেরণ করতেন। তার সংগঠন ক্ষমতা, জনসেবা ও অকৃত্রিম চরিত্র মাধুর্যে বিমোহিত হয়ে অমুসলিম সম্প্রদায়গুলো দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতো। তার পূর্বপুরুষেরা ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অধিবাসী ছিল বলে জানা যায়। হযরত খান জাহান আলী (রহ:) এর পিতার নাম ছিল আকবর খাঁ বা আজম খান এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। তারা হযরত বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:) এর বংশধর। এ দেশে আগমনের সময় তাঁর সাথে যে ৩৬০ জন আউলিয়া এসেছিলেন সম্ভবতঃ তাঁদের সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি ৩৬০টি মসজিদ নির্মাণ ও ৩৬০টি দীঘি খনন করেছিলেন। প্রথমে শাসকরূপে জীবন শুরম্ন করলেও পরবর্তীতে ধর্ম প্রচার ও জনসেবাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ। স্থানীয় জনসাধারণের কাছে তিনি ছিলেন এক অলৌকিক ক্ষমতাবান মহাপুরুষ।

দুঃস্থ মানুষের মুখে অন্ন, লবণাক্ততা থেকে জলকষ্ট নিবারণের জন্য অসংখ্য দীঘি খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, হাট-বাজার স্থাপন ও মানুষের ধর্মীয় উপাসনার জন্য উপাসানালয় নির্মাণ করে প্রকৃত শাসকের পরিচয় দিয়েছেন। হযরত খান জাহান আলী (রহ:) এর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারোবাজার, মুড়লী কসবা, পয়গ্রাম কসবা ও বাগেরহাট নগরী। শেষ সময় নকশা আর কারুকার্যে খচিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনী এক গম্বুজ মসজিদ, চুনাখোলা এক গম্বুজ মসজিদ, খান জাহানের বসতবাটী, রণ বিজয়পুর মসজিদ, খান জাহানের মাজার, পীর আলী মুহাম্মদ তাহিরের মাজার, দরগা মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, কুড়া মসজিদ, তিন গম্বুজ মসজিদ, বাবুর্চিখানা, খাঞ্জালীর জাঙ্গাল, ঠাকুরদীঘি, ঘোড়াদীঘি সহ অসংখ্য মসজিদ ও দিঘী। বারোবাজারে প্রাচীন সংস্কৃতির চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। এখানে হযরত খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও দিঘী রয়েছে। তাছাড়া বারোবাজারে তার অবস্থানকালে ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচার হয়েছিল। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি মসজিদ নির্মাণ করেন। যার মধ্যে গোড়া মসজিদ, জোড় বাংলার মসজিদ, চেরাগদানি মসজিদ ও সাতগাছিয়া মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। খানজাহান আলী (রহ:) এর প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল সোনা বিবি। কথিত আছে সোনা বিবি ছিলেন খানজাহান আলীর পীর নূর-কুতুবুল আলমের একমাত্র কন্যা। খানজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী রূপা বিবি ওরফে বিবি বেগনী ধর্মান্তরিত মুসলমান ছিলেন। খানজাহান আলী তার দুই স্ত্রীর নাম অনুসারে সোনা মসজিদ এবং বিবি বেগনী মসজিদ নামে মসজিদ নির্মাণ করেন। মাজারশরীফের শিলালিপি অনুযায়ী ৮৬৩ হিজরী ২৬শে জিলহজ্ব, অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯ তারিখে হযরত খানজাহান আলী (রঃ) ষাট গম্বুজ মসজিদের দরবার গৃহে এশার নামাজ রত অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। জন্ম ও পরিচয় : তিনি ১৩৬৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীতে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। পিতার কাছেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিক্ষা গ্রহণ : পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি দিল্লীর বিখ্যাত ওলিয়ে কামেল পীর শাহ নেয়ামত উল্লাহর (রাহ.) কাছে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি কুরআন, হাদিস ও ইলমে ফিকহ শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন। কর্ম জীবন : শিক্ষা জীবন শেষ করার পর হজরত খানজাহান আলী সে সময় তুঘলক সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। অতি অল্প সময়েই তিনি প্রধান সেনাপতি পদে উন্নীত হন। তারপর ১৩৯৪ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২৬-২৭ বছর বয়সে তিনি জৈনপুর প্রদেশের জাবিতান (গভর্ণর) পদে যোগদান করেন। ইসলামের খেদমত ও রাজ্য প্রতিষ্ঠা : পরবর্তী সময়ে হজরত খানজাহান আলী (রাহ.) ইসলাম ধর্ম প্রচারে বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমান বাগেরহাটে এসে পৌছেন। এবং সেখানে তিনি জনকল্যাণে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময়ে যশোর-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা ও বরিশালের কিছু অংশ নিয়ে ‘খলিফাতাবাদ’ নামে একটি রাজ্য গড়ে তোলেন। পরে ওই রাজ্য পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ আবু তাহেরকে নিয়োগ দেন। আবু তাহের হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ছিলেন মেহেরপুরের বর্ধিষ্ণু ব্রাক্ষম গোবিন্দ ঠাকুর। খলিফাতাবাদ রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল বর্তমান বাগেরহাট জেলার ষাটগুম্বুজ মসজিদ। এ মসজিদ থেকেই ফলিফাতাবাদ রাজ্য পরিচালনা করা হতো। হজরত খানজাহান আলী প্রতিষ্ঠিত রাজ্যটি তিনটি পরগনায় বিভক্ত ছিল। যা যশোর, বেতকাশী ও বাগেরহাট নামে পরিচিত ছিল। এ রাজ্যের প্রশাসনিক রাজধানী বা দফরত ছিল বাগেরহাটের হাবেলী খলিফাতাবাদ পরগনায়। ঐতিহাসিক তথ্য : জৈনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কির কাছে বাংলার ইসলাম রক্ষা ও প্রচারের জন্য নুর-ই কুতুব-উল আলম নামের এক ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ৬০ হাজার সৈন্য চান। নুর-ই কুতুব-উল আলমের কথা মতো সুলতান ইবরাহিম শর্কি ৬০ হাজার সৈন্যবাহিনী পাঠান। ওই সৈন্যবাহিনী পরিচালনায় প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ‘খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান’ খ্যাত হজরত খানজাহান আলী (রাহ.)। সুলতান ইবরাহিম শর্কির অনুমতি ক্রমে হজরত খানজাহান আলী (রাহ.) তার ১১ জন আধ্যাত্মিক অনুসারী ও ৬০ হাজার সৈন্যের বহর নিয়ে গনেশের রাজধানী গৌড় অতিক্রম করে বাংলায় এসে পৌছেন। ১৪১২-১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ঝিনাইদাহর বারোবাজারে হজরত খানজাহান আলীর সৈন্যদল এসে প্রথমে ঘাঁটি গাড়েন। আধ্যাত্মিক গুরু নুর-ই-কুতুব-উল আলমের আমন্ত্রণে ধর্ম প্রচারের আসা এ কাফেলায় হজরত খানজাহানসহ যে ১১ জন ব্যক্তি এসেছিল, তারা সবাই ছিলেন জ্ঞানী ও ইলমে মারেফাতের বিশেষ বিদ্যায় পারদর্শী। সে ছিলেন তাদের অন্যতম। সে কারণেই তাকে এতবড় গুরু দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ঝিনাইদাহে এই ১২ জন ধর্মীয় ব্যক্তি ও যোদ্ধা অবস্থান কালীন সময়ে ওই এলাকার নাম হয় বারোবাজার। সে বারোবাজারে অবস্থানকালে রাজা গনেশ তার এক সুসজ্জিত প্রশিক্ষিত সৈন্যদলকে বাধা প্রদানের জন্য পাঠায়। কিন্তু তারা বারোবাজারের অদুরে বিজয়পুর নামক স্থানে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া এসব সৈন্যরা পরবতীর্তে বিভিন্ন সময় হজরত খানজাহানের ধর্ম প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। বারোবাজারে অবস্থানকালীন সময়ে হজরত খানজাহান আলী সেখানে জনকল্যানে তিনি দিঘি খনন ও মসজিদ নির্মান করেন।

পরে তার এক শিষ্য রেবাস শাহ’র কাছে বারোবাজারের দায়িত্বভার ও ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব অর্পন করেন। হজরত খানজাহান আলী (রাহ.) ধর্মপ্রচারের জন্য ভৈরব নদীর উপকূল ধরে মুরালী এলাকায় অগ্রসর হন। সেখানে সৈন্যদের নিয়ে ঘাটি গাড়েন। অনুসারীদের সাথে নিয়ে দিঘি, মসজিদ নির্মান করে ওই অঞ্চলকে পর্যায়ক্রমে শহর গড়ে তোলেন। ওই সময় বৌদ্ধদেও মুরালী নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুরালী কসবা। এই মুরালী কসবা শহরের অদুরে তিনি আরেকটি শহর গড়ে তোলেন যার নাম দেন ‘ছানি কসবা’। যা পরবর্তীকালে পুরাতন কসবা নামে পরিচিত ছিল। এই পুরাতন কসবাই বর্তমান যশোর জেলা। তারপর হজরত খানজাহান আলী (রাহ.) তার দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব গরিব শাহ ও বোরহান শাহ এর উপর ওই এলাকার দায়িত্ব ভার অর্পন করে বর্তমান মেহেরপুর পূর্বের পায়গ্রামে ঘাটি গাড়েন। পায়গ্রাম কসবায় কিছুদিন অবস্থান করার পর তিনি মির্জাপুর ও গোপালপুরে কয়েকটি মসজিদ নির্মাণ করেন। কিছুদিন পরে তার প্রিয় শিষ্য মেহেরউদ্দীন খানকে সেখানে রেখে আবারও দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হন। মেহের উদ্দীন পীরের নাম অনুসারে পরে ওই স্থানের নাম হয় মেহেরপুর। মেহেরপুরে ওই সময়ে অনেক হিন্দু ব্রাহ্মণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। যার মধ্যে গোবিন্দ ঠাকুর অন্যতম। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার খুব প্রভাব ছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আবু তাহের। শেষ জীবন পর্যন্ত গোবিন্দ ঠাকুর বা মোহাম্মদ আবু তাহের হজরত খানজাহান আলীর (রাহ.) সহচার্যে থেকে তার প্রতিষ্ঠিত রাজ্য খলিফাতাবাদ রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। হজরত খানজাহান আলীর (রাহ.) সমাধিস্থলের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। এই ঘোড়া দিঘীর অদুরে উত্তর দিকে হজরত খানজাহান আলীর (রাহ.) বসতভিটা। আর ঘোড়া দিঘীর পূর্ব পাড়েই তিনি তার শিবির পুনরায় স্থানান্তর করেন তৈরী করেন ঐতিহাসিক ষাটগুম্বুজ মসজিদ। প্রতিষ্ঠা করেন খলিফাতাবাদ রাজ্য। হজরত খানজাহান আলী (রাহ.) প্রতিষ্ঠিত ষাটগুম্বুজ মসজিদ, বাসস্থান, প্রশাসনিক অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থাপনাগুলো পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ২.৫ (আড়াই) কিলোমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত। বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো প্রাণভরে উপভোগ করছেন। দীর্ঘ সময় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে উঠলে বিশ্রাম নিচ্ছেন আধুনিক ডিজাইনের বাংলো ও বেঞ্চে। সেখানে বসে উপভোগ করছেন দিঘির অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দর্শনার্থীরা ষাটগম্বুজ মসজিদ ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, এতদিন শুধু বইয়ের পাতায় এবং সবার মুখে শুনেছি এ মসজিদে ষাটটি গম্বুজ রয়েছে। কিন্তু এবার বাস্তবে এসে দেখলাম, এখানে ৮১টি গম্বুজ রয়েছে। বইয়ের তথ্যের চেয়ে বাস্তবে দেখে আরও বেশি ভালো লেগেছে। পিরোজপুর থেকে ঘুরতে আসা কলেজছাত্র রিয়াদ হাওলাদার বলেন, বাগেরহাট আমার পাশের জেলা হলেও আগে কখনো এখানে ঘুরতে আসা হয়নি। শুধু বন্ধু-বান্ধবের মুখে শুনেছি। এবার ষাটগম্বুজ মসজিদে ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে, মাঝে মধ্যে এখানে আসব। প্রত্নত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ বলেছেন, এবছর এখানে ঈদ পরবর্তী তিনদিনে ২০ হাজার ৪০০ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি দর্শনার্থীরাও এসেছেন। ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে ২৫ জন দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে এসেছেন। যাদুঘরের বিভাগীয় প্রকাশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফারজান পারভিন মিতা জানান, এবারে ঈদুল ফিতর দিন টিকিট বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার টাকার। বিশ^ ঐতিহ্য ষাটগুম্বুজ মসজিদ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ সচেতন। সবার প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিক। ষাটগম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এখানে মোট গম্বুজ ৮১টি। সারাদিন ঘুরতে প্রতিটি দর্শনার্থীর জন্য ৩০ টাকা, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য ১০ টাকা, বিদেশি পর্যটকের জন্য ৫০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর পর্যটকদের জন্য ২০০ টাকা টিকিট মূল্য নির্ধারিত।






















