ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে স্বপ্নভঙ্গ

অষ্টম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে

এম.জে.এ মামুন:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৭ বার পঠিত
 কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায় ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৃত্তি পরীক্ষার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। শ্রেণি শিক্ষক তালিকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারে যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রেজিস্ট্রেশনই করেনি। এতে তারা মেধা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি হারিয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা মাহি, ফয়সাল, তানভির, মাহিম ও সারমিন বলেন, “শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ছিল এই বৃত্তি পরীক্ষা। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমরা ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না—এটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।”
বালক শাখার শ্রেণি শিক্ষক দ্বীন ইসলাম জানান, পূজার ছুটির সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া তার কাছে ১০ জন আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চান। তিনি সংখ্যা দিলেও তালিকা চাওয়া হয়নি, তাই পাঠানোও হয়নি।
ছাত্রী শাখার শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটর সওকত ভূঁইয়াও জানান, প্রধান শিক্ষক তার কাছেও শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চেয়েছিলেন। ছুটির কারণে তালিকা তৈরি হয়নি এবং পরেও প্রধান শিক্ষক আর তালিকা চাননি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “বালক ও বালিকা শাখায় মোট ১৪৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণি শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুতের কথা বলেছিলাম। তবে পূজার ছুটি ও স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বিষয়টি আর ফলোআপ করতে পারিনি। কম্পিউটার শিক্ষক অনলাইন রেজিস্ট্রেশন না করায় এ সমস্যা হয়েছে।”
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, “কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান জাহাঙ্গীর জানান, “উপজেলার ৫২টি প্রতিষ্ঠানের ২০-৩০% শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু এই বিদ্যালয়টি কোনো রেজিস্ট্রেশন করেনি—সেটি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। বিদ্যালয় আমাদের কিছু জানায়নি। তবে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করলে এখনও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রয়েছে।”
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে স্বপ্নভঙ্গ

অষ্টম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
 কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ৩০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায় ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৃত্তি পরীক্ষার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। শ্রেণি শিক্ষক তালিকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারে যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রেজিস্ট্রেশনই করেনি। এতে তারা মেধা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি হারিয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা মাহি, ফয়সাল, তানভির, মাহিম ও সারমিন বলেন, “শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ছিল এই বৃত্তি পরীক্ষা। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমরা ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না—এটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।”
বালক শাখার শ্রেণি শিক্ষক দ্বীন ইসলাম জানান, পূজার ছুটির সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া তার কাছে ১০ জন আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চান। তিনি সংখ্যা দিলেও তালিকা চাওয়া হয়নি, তাই পাঠানোও হয়নি।
ছাত্রী শাখার শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটর সওকত ভূঁইয়াও জানান, প্রধান শিক্ষক তার কাছেও শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চেয়েছিলেন। ছুটির কারণে তালিকা তৈরি হয়নি এবং পরেও প্রধান শিক্ষক আর তালিকা চাননি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “বালক ও বালিকা শাখায় মোট ১৪৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণি শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুতের কথা বলেছিলাম। তবে পূজার ছুটি ও স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বিষয়টি আর ফলোআপ করতে পারিনি। কম্পিউটার শিক্ষক অনলাইন রেজিস্ট্রেশন না করায় এ সমস্যা হয়েছে।”
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, “কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান জাহাঙ্গীর জানান, “উপজেলার ৫২টি প্রতিষ্ঠানের ২০-৩০% শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু এই বিদ্যালয়টি কোনো রেজিস্ট্রেশন করেনি—সেটি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। বিদ্যালয় আমাদের কিছু জানায়নি। তবে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করলে এখনও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রয়েছে।”