ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
মধু উৎপাদনে ধস, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

ইমরোজুল ইসলাম, মহম্মদপুর(মাগুরা)
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯৭ বার পঠিত

ইমরোজুল ইসলাম, মহম্মদপুর(মাগুরা): দেশের বিভিন্ন জেলায় চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে জেলার সদর উপজেলায় অভিজ্ঞ মৌচাষিরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।
সদর উপজেলার অভিজ্ঞ মৌচাষি মো. নাসির হোসেন গত ১৮ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ করে আসছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি নিজের খামারকে বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫০টি মৌবক্স ও প্রায় ২,৫০০টি ফ্রেম।
তিনি সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, খেসারি, লিচু, বড়ইসহ বিভিন্ন মিশ্র ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এছাড়া অঞ্চলের বাইন ও খলিশা ফুল থেকেও মৌমাছির মাধ্যমে মধু আহরণ করা হয়। সাধারণত একটি বক্সে পুরো মৌসুমে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু উৎপাদন হয়। তবে চলতি মৌসুমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মো. নাসির হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৬০ শতাংশ মধু কম উৎপাদন হয়েছে। তীব্র কুয়াশা, দীর্ঘস্থায়ী শীত ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে অনেক মৌমাছি মারা গেছে। পাশাপাশি সরিষা ক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে ব্যাপক হারে মৌমাছির ক্ষতি হয়েছে। এতে করে মধু সংগ্রহে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মন মধুর দাম সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন কম হওয়ায় খামারিদের প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। উপরন্তু বাজারে ভেজাল মধুর বিস্তার আসল মধুর চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, তিনি মাগুরা সমবায় সমিতির সদস্য এবং পরিচয়পত্রধারী। তারপরও বাজারে নকল মধুর দৌরাত্ম্যে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই খামারি। তবে তিনি আশা হারাননি। আগামী মৌসুমে মৌমাছি সংরক্ষণ, নতুন বক্স সংযোজন এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৌচাষিরা বলছেন, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল মধুর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি না হলে এ খাত আরও সংকটে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।






















