ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার

মুক্তিপন দিয়ে সুন্দরবনের ডাকাতদের থেকে ফিরলেন ১৪-জেলে

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগেরহাট
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / ৭২ বার পঠিত

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগেরহাট: সুন্দরবনে অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর বনদস্যুদের দাবি করা চড়া মূল্যের মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ১৪ জেলে। জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ প্রদানের মাধ্যমে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে তারা লোকালয়ে ফিরে আসেন। তবে জেলেদের এই প্রত্যাবর্তনের খবরে স্বস্তির বদলে সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় জেলেদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, ফিরে আসা এই জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের অধীনে কর্মরত ছিলেন। দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য গড়ে ৭৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ গুনতে হয়েছে মহাজনদের।

​গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে অপহরণ করে। এর মাত্র চার দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী আরও ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ দিন বন্দি থাকার পর প্রথম দফায় এই ১৪ জন মুক্তি পেলেন।

​দুবলার চর শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, মুক্তিপণ দিয়ে কিছু জেলে ফিরলেও দস্যুদের উপদ্রব কমেনি। বরং চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় দস্যু বাহিনীগুলো পুনরায় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে আরও বড় পরিসরে জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দুবলা ও শেলার চরসহ বিভিন্ন চরের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে এই বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বর্তমানে বনদস্যুদের জন্য এক নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দস্যুরা শুধু জেলে অপহরণই নয়, মহাজনদেরও মোবাইল ফোনে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে বিশেষ ও জোরালো যৌথ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মুক্তিপন দিয়ে সুন্দরবনের ডাকাতদের থেকে ফিরলেন ১৪-জেলে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগেরহাট: সুন্দরবনে অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর বনদস্যুদের দাবি করা চড়া মূল্যের মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ১৪ জেলে। জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ প্রদানের মাধ্যমে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে তারা লোকালয়ে ফিরে আসেন। তবে জেলেদের এই প্রত্যাবর্তনের খবরে স্বস্তির বদলে সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় জেলেদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, ফিরে আসা এই জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের অধীনে কর্মরত ছিলেন। দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য গড়ে ৭৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ গুনতে হয়েছে মহাজনদের।

​গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে অপহরণ করে। এর মাত্র চার দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী আরও ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ দিন বন্দি থাকার পর প্রথম দফায় এই ১৪ জন মুক্তি পেলেন।

​দুবলার চর শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, মুক্তিপণ দিয়ে কিছু জেলে ফিরলেও দস্যুদের উপদ্রব কমেনি। বরং চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় দস্যু বাহিনীগুলো পুনরায় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে আরও বড় পরিসরে জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দুবলা ও শেলার চরসহ বিভিন্ন চরের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে এই বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বর্তমানে বনদস্যুদের জন্য এক নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দস্যুরা শুধু জেলে অপহরণই নয়, মহাজনদেরও মোবাইল ফোনে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে বিশেষ ও জোরালো যৌথ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।