ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিরতদন্ত বোর্ডের মূল সনদ দেখাতে ব্যর্থ

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / ৭২ বার পঠিত

মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ নাজমুল হুদার জাল ডিগ্রী সনদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর গঠিত তদন্ত বোর্ডেও তিনি ডিগ্রি পাসের মূল সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অনুষ্ঠিত তদন্ত বোর্ডে তার কাছে ডিগ্রি পাসের মূল সনদ উপস্থাপন করতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে সময় চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
তদন্ত চলাকালে ঘটনাস্থলে কয়েকটি অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বোর্ডের কার্যক্রম চলাকালীন সময়েই ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নাজমুল হুদা এবং বিদ্যালয়ের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ছাতনাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. অজিবুল হক দুলুকে অন্তত তিনবার বোর্ড কক্ষের বাইরে যাতায়াত করতে দেখা যায়।
এ সময় তারা মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মানিক মিয়া, রিপন ও শিবলুসহ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপ-আলোচনা করেন। পরে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সভাপতি নাজমুল হুদা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিবুল হক দুলু ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত এক কর্মকর্তার কাছ থেকে কাগজ ও কলম নিয়ে ডিগ্রি পাসের মূল সনদ দেখানোর জন্য সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
তদন্ত চলাকালে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বারবার বোর্ড কক্ষের বাইরে যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে তদন্ত বোর্ডের আজকের কার্যক্রম শেষে জাল সনদ ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা সভাপতি নাজমুল হুদার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মানিক মিয়া, রিপন ও শিবলুসহ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি নাজমুল হুদাকে ঘিরে রাখেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেন। কেন তাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা বলেন,“আমরা নাজমুল হুদা (তারিফ) ভাইয়ের লোক। কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের বলেন।”
এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জাল সনদের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলাকালে বহিরাগতদের এমন প্রভাব ও হস্তক্ষেপ তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ডিমলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ আফরোজ বেগম বলেন,“অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বোর্ড বসে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। অভিযুক্ত সভাপতি আজ ডিগ্রি সনদের মূল কপি উপস্থাপন করতে পারেননি এবং সময়ের আবেদন করেছেন। বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি মূল সনদ উপস্থাপন করতে না পারলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে “বার্তা বাজার” পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি নেতা মোঃ নাজমুল হুদা যে ডিগ্রি সনদ জমা দিয়েছেন, তার উল্লেখিত রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজের রেকর্ডে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই রোল নম্বরেও কলেজে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।























