ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
"বাড়ি তো নয় যেন পাখির বাসা"

মোকাদ্দেসের ইতিহাস চোখে পানি চলে আসে

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১০৬ বার পঠিত
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:  ‘বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি’কবি জসিম উদ্দিনের আসমানী কবিতার এ চিত্রই যেন দেখা গেলো রাজবাড়ীতে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পার সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোকাদ্দেস শেখ এর থাকার ঘরটি কবিতার উক্তি মনে করিয়ে দেয়। ওই গ্রামের হতদরিদ্র মোকাদ্দাছ এমনই পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ছোট এক ঘরে প্রায় ৫ বছর ধরে বাস করছেন।
শীতের মৌসুমে যখন অনেকে ঘর গরম রাখতে রুম হিটার, দামি কম্বল, লেপ ও চাদরে নিজেদের উষ্ণ রাখছেন তখন মোকাদ্দেসের নেই মাথা গোঁজার মতো একটি শক্ত ঘরও। তিনি অন্তত ৫ বছর ধরে পলিথিন মোড়ানো কোনোরকম আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন।
সেই ঘরের ছাউনি করা হয়েছে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা পুরোনো পলিথিন দিয়ে। হাড় কাঁপানো শীতের মাঝেও রাতে ঘুমানোর জন্য তার রয়েছে মাত্র কয়েকটি ছেঁড়া বস্তা আর একটি কাপড়। রান্নার জন্য নেই কোনো পাতিল বা চুলা। নেই জ্বালানি বা পানি খাওয়ার মতো একটি মগও। অন্যের বাড়ির দরজায় হাত পেতে পাওয়া খাবারই তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন।
স্থানীয়রা জানান, মুকাদ্দাসের তিন কন্যা রয়েছে। দুইজন অন্যের বাড়িতে কাজ করে একজন প্রতিবন্ধী। এদিকে মুকাদ্দাস একজন বিদ্যুৎ মিস্ত্রী ছিলেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎ থেকে তার শখ লেগে মাথার ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে তিনিও প্রতিবন্ধীর মতো জীবন যাপন করছেন।
মোকাদ্দেছ জানান, আমি খুব কষ্টের জীবন যাপন করছি। সারারাত জেগে থাকি সন্তান ও আমার স্ত্রী ঘুমায়। এই পলিথিনের মধ্য দিয়ে কখনো কুকুর কখনো বিভিন্ন জীবজন্তু রাতে ঢুকে পড়ে। কত কষ্টে আছি ভাই বোঝানো যাবে না। হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে সাহায্য করুন আমাদেরকে ঘর তোলার ব্যবস্থা করে দিন।
প্রতিবন্ধী কন্যা পন্নী আক্তার জানান বলেন, আমরা জন্মগতভাবেই খুব দরিদ্র, এখন আমরা বড় হয়েছি কিন্তু ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। সরকার অনেককে সাহায্য সহযোগিতা করে, কিন্তু বাবা সেই সুবিধা পান না।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, মুকাদ্দাসের মত দরিদ্র রাজবাড়িতে আর নাই। কত কষ্ট করে সে সংসার চালাচ্ছে সেই সাথে রাত যাপন করে। আমাদের কিসের যত জাকাত ফিতরা আছে আসুন আমরা সবকিছু দিয়ে ইনার পাশে দাঁড়াই। তাকে ঘর তোলার ব্যবস্থা করে দিন। অন্তত তার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে নিয়ে তিনি যেন সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আসাদ মিয়া জানান, মোকাদ্দেস সত্তিকারের একজন দরিদ্র মানুষ। সে একজন প্রতিবন্ধী। পলিথিন মোড়ানো ঘরে এসে বসবাস করছে দীর্ঘদিন। তাকে সাহায্য সহযোগিতা করতে কেউ এগিয়ে আসেনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

"বাড়ি তো নয় যেন পাখির বাসা"

মোকাদ্দেসের ইতিহাস চোখে পানি চলে আসে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:  ‘বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি’কবি জসিম উদ্দিনের আসমানী কবিতার এ চিত্রই যেন দেখা গেলো রাজবাড়ীতে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পার সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোকাদ্দেস শেখ এর থাকার ঘরটি কবিতার উক্তি মনে করিয়ে দেয়। ওই গ্রামের হতদরিদ্র মোকাদ্দাছ এমনই পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ছোট এক ঘরে প্রায় ৫ বছর ধরে বাস করছেন।
শীতের মৌসুমে যখন অনেকে ঘর গরম রাখতে রুম হিটার, দামি কম্বল, লেপ ও চাদরে নিজেদের উষ্ণ রাখছেন তখন মোকাদ্দেসের নেই মাথা গোঁজার মতো একটি শক্ত ঘরও। তিনি অন্তত ৫ বছর ধরে পলিথিন মোড়ানো কোনোরকম আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন।
সেই ঘরের ছাউনি করা হয়েছে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা পুরোনো পলিথিন দিয়ে। হাড় কাঁপানো শীতের মাঝেও রাতে ঘুমানোর জন্য তার রয়েছে মাত্র কয়েকটি ছেঁড়া বস্তা আর একটি কাপড়। রান্নার জন্য নেই কোনো পাতিল বা চুলা। নেই জ্বালানি বা পানি খাওয়ার মতো একটি মগও। অন্যের বাড়ির দরজায় হাত পেতে পাওয়া খাবারই তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন।
স্থানীয়রা জানান, মুকাদ্দাসের তিন কন্যা রয়েছে। দুইজন অন্যের বাড়িতে কাজ করে একজন প্রতিবন্ধী। এদিকে মুকাদ্দাস একজন বিদ্যুৎ মিস্ত্রী ছিলেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎ থেকে তার শখ লেগে মাথার ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে তিনিও প্রতিবন্ধীর মতো জীবন যাপন করছেন।
মোকাদ্দেছ জানান, আমি খুব কষ্টের জীবন যাপন করছি। সারারাত জেগে থাকি সন্তান ও আমার স্ত্রী ঘুমায়। এই পলিথিনের মধ্য দিয়ে কখনো কুকুর কখনো বিভিন্ন জীবজন্তু রাতে ঢুকে পড়ে। কত কষ্টে আছি ভাই বোঝানো যাবে না। হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে সাহায্য করুন আমাদেরকে ঘর তোলার ব্যবস্থা করে দিন।
প্রতিবন্ধী কন্যা পন্নী আক্তার জানান বলেন, আমরা জন্মগতভাবেই খুব দরিদ্র, এখন আমরা বড় হয়েছি কিন্তু ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। সরকার অনেককে সাহায্য সহযোগিতা করে, কিন্তু বাবা সেই সুবিধা পান না।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, মুকাদ্দাসের মত দরিদ্র রাজবাড়িতে আর নাই। কত কষ্ট করে সে সংসার চালাচ্ছে সেই সাথে রাত যাপন করে। আমাদের কিসের যত জাকাত ফিতরা আছে আসুন আমরা সবকিছু দিয়ে ইনার পাশে দাঁড়াই। তাকে ঘর তোলার ব্যবস্থা করে দিন। অন্তত তার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে নিয়ে তিনি যেন সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আসাদ মিয়া জানান, মোকাদ্দেস সত্তিকারের একজন দরিদ্র মানুষ। সে একজন প্রতিবন্ধী। পলিথিন মোড়ানো ঘরে এসে বসবাস করছে দীর্ঘদিন। তাকে সাহায্য সহযোগিতা করতে কেউ এগিয়ে আসেনা।