ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
ভ্রাম্যমান আদালতের সাজা নিয়ে উত্তেজনা

নীলফামারীতে শ্রমিকদের কর্ম বিরোধীতে তেল সরবরাহ বন্ধ 

মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ৮৭ বার পঠিত
মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী:  নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ট্যাংকলরী শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ নীলফামারীতে যমুনা অয়েলের তেলবোঝাই একটি ট্যাংকলরী যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাস্তায় থামিয়ে মেরামত করা হচ্ছিল। এ সময় জেলা প্রশাসনের এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেল চুরির অভিযোগ তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
প্রশাসনের দাবি, গাড়ি থেকে ১৩ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লরি ম্যানেজার একরামুল হককে ৪০ হাজার টাকা, চালক শ্রীকৃষ্ণকে ৪০ হাজার টাকা এবং সহকারী রিফাতকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শ্রমিকদের দাবি, তারা কোনো ধরনের তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের সময় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে “হয়রানিমূলক” বলে উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন আজ সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। এর ফলে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, “আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির দাবিও জানান তিনি।”
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দেওয়া সাজায় নিঃশর্ত মুক্তির সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী আপিল করতে হয়। আপিল করলে দ্রুত শুনানি শেষে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ভ্রাম্যমান আদালতের সাজা নিয়ে উত্তেজনা

নীলফামারীতে শ্রমিকদের কর্ম বিরোধীতে তেল সরবরাহ বন্ধ 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৩১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী:  নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ট্যাংকলরী শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ নীলফামারীতে যমুনা অয়েলের তেলবোঝাই একটি ট্যাংকলরী যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাস্তায় থামিয়ে মেরামত করা হচ্ছিল। এ সময় জেলা প্রশাসনের এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেল চুরির অভিযোগ তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
প্রশাসনের দাবি, গাড়ি থেকে ১৩ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লরি ম্যানেজার একরামুল হককে ৪০ হাজার টাকা, চালক শ্রীকৃষ্ণকে ৪০ হাজার টাকা এবং সহকারী রিফাতকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শ্রমিকদের দাবি, তারা কোনো ধরনের তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের সময় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে “হয়রানিমূলক” বলে উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন আজ সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। এর ফলে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, “আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির দাবিও জানান তিনি।”
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দেওয়া সাজায় নিঃশর্ত মুক্তির সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী আপিল করতে হয়। আপিল করলে দ্রুত শুনানি শেষে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।