ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ১৭ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ধার নেওয়া টাকাকে সুদে বাড়িয়ে আদায় এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সাবেক দুইবারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ফাতেমা খাতুন লতা। একই সঙ্গে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা খাতুন লতা বলেন, পারিবারিক ও আর্থিক সম্পর্কের সূত্র ধরে তার ভাজতি জামাই নুরুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকা ধার নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের সময় নেওয়া ধার ভোট শেষে সুদ-আসলসহ পরিশোধ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, টাকা পরিশোধের পরও নুরুজ্জামানের বিভিন্ন অনৈতিক চাওয়া ছিল। তিনি সেসব বিষয়ে রাজি না হওয়ায় নুরুজ্জামান প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং পূর্বের ধার সংক্রান্ত তার কাছে থাকা স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বড় অঙ্কের চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নুরুজ্জামান নিজের ইচ্ছামতো চেকের পাতায় টাকার অঙ্ক বসিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে মামলা করিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, ২০২১ সালে বাঘা পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিলুফা ইয়াসমিন ও মামুন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন নুরুজ্জামান। পরে চাকরি না দিতে পারলেও ২০২৩ সালে লতা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কৌশলে ওই দুই ব্যক্তিকে তার অফিসে নিয়ে আসা হয়।
ফাতেমা খাতুন লতা দাবি করেন, পরে ‘আশার আলো’ নামের একটি এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলে কৌশলে তার অগ্রণী ব্যাংকের তিনটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও একটি স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। তিনি বলেন, মামুন হোসেন বা নিলুফা ইয়াসমিন কেউই তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দেননি। অথচ বর্তমানে মামুন হোসেনের নামে ১৫ লাখ টাকার (মামলা নং- ১৬১৩/২৫) এবং নিলুফা ইয়াসমিনের নামে ২০ লাখ টাকার (মামলা নং- ৫২৮/সি) দুটি চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এছাড়া নুরুজ্জামান নিজেও বাদী হয়ে ২৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, নিলুফা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় গত ১১ মার্চ তাকে ছয় দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লতা আরও বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি একা ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বুঝতে পেরে নুরুজ্জামান ও তার ছেলে স্বদেশ তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য বাঘা উপজেলার রঞ্জু চেয়ারম্যান, বাঘা প্রেসক্লাবের সভাপতি আঃ লতিফ, সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান ও লালন উদ্দিন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে তা সফল হয়নি।
ফাতেমা খাতুন লতা আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে অপদস্থ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন।
দীর্ঘদিন তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সাবেক জনপ্রতিনিধি বলেন, এলাকার মানুষ তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। তিনি নিজেকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।





















