ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
প্রশ্নের মুখে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলীর ভূমিকা

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৩৩ বার পঠিত
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:   কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি তবকপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত মান অনুসরণ না করা, রাতের আঁধারে কার্পেটিং কাজ পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুরের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার। এ সময় তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কথোপকথনের একপর্যায়ে সাংবাদিকের প্রতি অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের দুই দিন আগে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “কাজ বন্ধ না করলে আমি কি মারামারি করে কাজ বন্ধ করব?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অভিযোগ ওঠার পরও রাতের বেলায় সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পুনরায় উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলে তিনি পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
এ সময় সাংবাদিককে উদ্দেশ করে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, “আপনি এমন ভাব নিচ্ছেন যে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না?”—যা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুরের সভাপতি ফিরোজ কবির কাজল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা যদি সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদান বা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা স্বাধীন গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতার চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তবকপুর সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কাজ পরিচালনা, কাজের মান নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি মেনে চলা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, “একজন উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আচরণ বা হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি উপজেলা প্রকৌশলী নিজেই কাজের অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থেকে থাকেন এবং কাজ বন্ধে চিঠি দেওয়ার দাবি করে থাকেন, তাহলে অভিযোগের পরও কেন নির্মাণকাজ চলমান ছিল? আর যদি প্রকল্পে কোনো অনিয়ম না হয়ে থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের প্রয়োজনই বা কেন?
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যাচাই এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রশ্নের মুখে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলীর ভূমিকা

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:   কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি তবকপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত মান অনুসরণ না করা, রাতের আঁধারে কার্পেটিং কাজ পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুরের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার। এ সময় তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কথোপকথনের একপর্যায়ে সাংবাদিকের প্রতি অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের দুই দিন আগে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “কাজ বন্ধ না করলে আমি কি মারামারি করে কাজ বন্ধ করব?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাজ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অভিযোগ ওঠার পরও রাতের বেলায় সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পুনরায় উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলে তিনি পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
এ সময় সাংবাদিককে উদ্দেশ করে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, “আপনি এমন ভাব নিচ্ছেন যে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না?”—যা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুরের সভাপতি ফিরোজ কবির কাজল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা যদি সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদান বা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা স্বাধীন গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতার চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তবকপুর সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কাজ পরিচালনা, কাজের মান নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি মেনে চলা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, “একজন উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আচরণ বা হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি উপজেলা প্রকৌশলী নিজেই কাজের অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থেকে থাকেন এবং কাজ বন্ধে চিঠি দেওয়ার দাবি করে থাকেন, তাহলে অভিযোগের পরও কেন নির্মাণকাজ চলমান ছিল? আর যদি প্রকল্পে কোনো অনিয়ম না হয়ে থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের প্রয়োজনই বা কেন?
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যাচাই এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।