ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

টিকটক নিয়ে কলহে স্ত্রী-হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

নড়াইল প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ৪০ বার পঠিত
নড়াইল প্রতিনিধি:   নড়াইলের  লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে সুমনা রওশনা আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারসহ পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিমন।
সোমবার (১৫ জুন) দিঘলিয়া ইউনিয়নের চর দিঘলিয়া গ্রামে সকালের  দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা রওশনা আক্তার লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার দৌলতদী গ্রামে। পিতা বাবর আলী ফকির।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন। এরপর এনজিও থেকে লোন নিয়ে ইজিবাইক কিনেও  চালাতো লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
 সোমবার(১৫ জুন) সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকান্ড।
সুমনার মা রোশেদা বেগম জানান, সোমবার  দুপুর পর জামাই লিমন ফোনে আমাকে জানায় আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। জামাইয়ের কথা তখন বিশ্বাস করিনি। এরপর সন্ধ্যায় এক মেম্বর ফোন করে জানায় আপনার মেয়ে মারা গেছে। এরপরেই  লোহাগড়া থানা পুলিশ ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ও তদন্ত কর্মকর্তা এস, আই মোঃ রবিউল ইসলাম  বলেন, “আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

টিকটক নিয়ে কলহে স্ত্রী-হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
নড়াইল প্রতিনিধি:   নড়াইলের  লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে সুমনা রওশনা আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারসহ পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিমন।
সোমবার (১৫ জুন) দিঘলিয়া ইউনিয়নের চর দিঘলিয়া গ্রামে সকালের  দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা রওশনা আক্তার লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার দৌলতদী গ্রামে। পিতা বাবর আলী ফকির।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন। এরপর এনজিও থেকে লোন নিয়ে ইজিবাইক কিনেও  চালাতো লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
 সোমবার(১৫ জুন) সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকান্ড।
সুমনার মা রোশেদা বেগম জানান, সোমবার  দুপুর পর জামাই লিমন ফোনে আমাকে জানায় আপনার মেয়েকে মেরে ফেলেছি। জামাইয়ের কথা তখন বিশ্বাস করিনি। এরপর সন্ধ্যায় এক মেম্বর ফোন করে জানায় আপনার মেয়ে মারা গেছে। এরপরেই  লোহাগড়া থানা পুলিশ ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ও তদন্ত কর্মকর্তা এস, আই মোঃ রবিউল ইসলাম  বলেন, “আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।