গ্যারেজ থেকে পালালেন মূলহোতা
চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সন্ধান

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ১৮ বার পঠিত

আবুল কালাম, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির গ্যারেজ শনাক্ত করা হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মোস্তবাপুর গ্রামের মোসলেম হোসেনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রায় ৫-৬ মাস আগে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মেহেদী হাসান ওরফে সান্টুর কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন।
তথ্যের সূত্র ধরে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ফরাসপুর এলাকা থেকে মেহেদী হাসান ওরফে সান্টুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজ কুমার বিশ্বাস ওরফে জসিমের কাছ থেকে কোনো কাগজপত্র ছাড়া ৭০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কে অবস্থিত ‘জসিম মোটরসাইকেল সেন্টার’ থেকে রাজ কুমার বিশ্বাস ওরফে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জসিম চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাসের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী বেনাপোল এলাকা থেকে কম দামে চোরাই মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।
ডিবির তদন্তে আরও জানা যায়, প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাসের ‘মেহেরিন অটো পার্টস সেন্টার’ নামের গ্যারেজে একটি পুরাতন কালো রঙের ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল রাখা ছিল। রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালালে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রসেনজিৎ মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে ফেলে চাবি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তঘেঁষা এলাকা দিয়ে চোরাই মোটরসাইকেল প্রবেশ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তা নিয়ে কার্যকর অভিযান খুব একটা দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক এই অভিযানে সেই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং এর উৎস অনুসন্ধানেও তদন্ত চলছে।



















