ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জবি প্রক্টরের

  • জবি প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০১:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৯ বার পঠিত
জবি প্রতিনিধি: ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের অবিনাশী চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রক্টর। ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) নেতৃবৃন্দের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনের পুরো প্রেক্ষাপট, শহীদদের অবদান এবং নতুন বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত ও দূরদর্শী বক্তব্য তুলে ধরেন।
​সাক্ষাৎকারে প্রক্টর মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “আমরা ‘৭১ কে বাদ দিয়ে জুলাইকে শুধু ধারণ করতে চাই না। ৭১ যেমন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় একটি বিষয়, তেমনি জুলাইকেও আমরা ছোট করে দেখতে চাই না।” তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ বছরের বঞ্চনা, বিচার বিভাগীয় অনিয়ম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মূলত কোটাপ্রথা বাতিলের আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়।
​আন্দোলনের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করে প্রক্টর গভীর আবেগের সাথে বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য এবং একের পর এক চালানো পুলিশের নির্মম গুলি আজও পীড়া দেয়। একইভাবে ছাত্র-জনতাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ মুগ্ধের শেষ মুহূর্তের ‘পানি পানি’ আকুতি এবং হেলিকপ্টার থেকে তিন বছরের শিশুর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো দেশের মানুষকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। শিশু থেকে বৃদ্ধ, রিকশাচালক থেকে মুদি দোকানদার—সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল। প্রক্টর জোর দিয়ে বলেন, “তাই এই আন্দোলন শুধু কোনো একটা গোষ্ঠীর ছিল না, এটা ছিল বাংলার আপামর জনসাধারণের আন্দোলন।”
শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে প্রক্টর বলেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। একই সাথে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাতে তারা স্ব স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেদিকে রাষ্ট্রকে মনোযোগ দিতে হবে।
​দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রক্টর অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ভারসাম্যপূর্ণ মতামত দেন। তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ফ্যাসিস্ট কায়দায় রাজনীতি করাদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম কতটা নিরসন করা সম্ভব তা দেখতে হবে। প্রক্টর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের খবর সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন, কারণ তিনি নিজেও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
​প্রক্টর বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখবে যাতে ‘আয়নাঘর’ বা নব্য ফ্যাসিবাদী কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি সরকারকে যতটা সম্ভব সংযমশীল হয়ে জনগণের অকৃত্রিম বিশ্বাস অর্জনের তাগিদ দেন। প্রক্টর পরিশেষে বলেন, জুলাইয়ের মতো এমন আন্দোলন শতাব্দীতে দুই-একবারই সংগঠিত হয়। ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার এই দ্বিতীয় বর্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার সর্বদাই সতর্ক থাকবে যাতে ভবিষ্যতে জুলাইয়ের মতো আন্দোলনের আর কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না হয়।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

কৃষির আধুনিকায়নই নিশ্চিত করবে খাদ্যের নিরাপত্তা

01 August 2026

মার্কিন এআই মডেল ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন করছে চীনের গবেষকরা

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জবি প্রক্টরের

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০১:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
জবি প্রতিনিধি: ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের অবিনাশী চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রক্টর। ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) নেতৃবৃন্দের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনের পুরো প্রেক্ষাপট, শহীদদের অবদান এবং নতুন বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে তাঁর সুচিন্তিত ও দূরদর্শী বক্তব্য তুলে ধরেন।
​সাক্ষাৎকারে প্রক্টর মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “আমরা ‘৭১ কে বাদ দিয়ে জুলাইকে শুধু ধারণ করতে চাই না। ৭১ যেমন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় একটি বিষয়, তেমনি জুলাইকেও আমরা ছোট করে দেখতে চাই না।” তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ বছরের বঞ্চনা, বিচার বিভাগীয় অনিয়ম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মূলত কোটাপ্রথা বাতিলের আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়।
​আন্দোলনের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করে প্রক্টর গভীর আবেগের সাথে বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য এবং একের পর এক চালানো পুলিশের নির্মম গুলি আজও পীড়া দেয়। একইভাবে ছাত্র-জনতাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ মুগ্ধের শেষ মুহূর্তের ‘পানি পানি’ আকুতি এবং হেলিকপ্টার থেকে তিন বছরের শিশুর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো দেশের মানুষকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। শিশু থেকে বৃদ্ধ, রিকশাচালক থেকে মুদি দোকানদার—সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল। প্রক্টর জোর দিয়ে বলেন, “তাই এই আন্দোলন শুধু কোনো একটা গোষ্ঠীর ছিল না, এটা ছিল বাংলার আপামর জনসাধারণের আন্দোলন।”
শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে প্রক্টর বলেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। একই সাথে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাতে তারা স্ব স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেদিকে রাষ্ট্রকে মনোযোগ দিতে হবে।
​দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রক্টর অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ভারসাম্যপূর্ণ মতামত দেন। তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ফ্যাসিস্ট কায়দায় রাজনীতি করাদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম কতটা নিরসন করা সম্ভব তা দেখতে হবে। প্রক্টর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের খবর সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন, কারণ তিনি নিজেও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
​প্রক্টর বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখবে যাতে ‘আয়নাঘর’ বা নব্য ফ্যাসিবাদী কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি সরকারকে যতটা সম্ভব সংযমশীল হয়ে জনগণের অকৃত্রিম বিশ্বাস অর্জনের তাগিদ দেন। প্রক্টর পরিশেষে বলেন, জুলাইয়ের মতো এমন আন্দোলন শতাব্দীতে দুই-একবারই সংগঠিত হয়। ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার এই দ্বিতীয় বর্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার সর্বদাই সতর্ক থাকবে যাতে ভবিষ্যতে জুলাইয়ের মতো আন্দোলনের আর কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না হয়।

Share this news as a Photo Card