শেখ রিফান আহমেদ : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। বিপুল যুবসংখ্যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এটি জনমিতিক সুফলে পরিণত হবে; আর অব্যবস্থাপনায় তা বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াবে। তাই দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ, রোবটিক্স, ই-কমার্স, আধুনিক কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে মুখস্থনির্ভর।
স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণ অংশীদারিত্ব এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
নারী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা সহায়তা নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াবে।
বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা, প্রযুক্তি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে রেমিট্যান্স আয় বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
যুবসমাজকে শুধু চাকরি প্রার্থী নয়, চাকরি সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। সহজ ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, পরামর্শ সেবা এবং বাজার সংযোগ তাদের এগিয়ে নিতে পারে।
তারুণ্যের শক্তিকে দক্ষতায় রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ আগামী দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
–লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 























