ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

গ্যাস সংকটে শিল্পে স্হবিরতা, ভোগান্তিতে হাজারো পরিবার

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদীর  শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের স্বল্প চাপের কারনে টেক্সটাইল, ডাইং, নিটিং, স্পিনিং ও গার্মেন্টস কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। গ্যাস সংকটের কারনে  অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না বান্না ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প মালিক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও সাধারন মানুষ সবাই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
নরসিংদী, মাধবদী, শেখেরচর, ঘোড়াশাল, পলাশ, মেহেরপাড়া ও আশেপাশের শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেক নেমে এসেছে বলে জানা যায়। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় জেলার পাঁচদোনা সাকোরার মোড়ে অবস্থিত জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এ। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক মেশিন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ (অর্ডার) থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম সৌরভ জানান , গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এর জিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম গনমামাধ্যম কে জানান,  আমাদের
কারখানায় পর্যাপ্ত অর্ডার রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কখনো খুব কম সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সময় মতো পণ্য না পৌঁছানোয় কিছু ক্রেতা ইতোমধ্যে অন্য দেশে অর্ডার দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলেপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলো উপর। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় পাম্পে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজিতে  যাএীদের নিকট থেকে বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
শিল্প উদ্যোক্তারা অবিলম্বে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারেরজরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পখাতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৪.৮% পদই শূন্য,ভোগান্তিতে রোগীরা

03 August 2026

ঝিনাইগাতী থানাকে পিকআপ ভ্যান উপহার দিলেন

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

গ্যাস সংকটে শিল্পে স্হবিরতা, ভোগান্তিতে হাজারো পরিবার

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

অরবিন্দ রায়, নরসিংদী:   তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদীর  শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের স্বল্প চাপের কারনে টেক্সটাইল, ডাইং, নিটিং, স্পিনিং ও গার্মেন্টস কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। গ্যাস সংকটের কারনে  অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না বান্না ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প মালিক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও সাধারন মানুষ সবাই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
নরসিংদী, মাধবদী, শেখেরচর, ঘোড়াশাল, পলাশ, মেহেরপাড়া ও আশেপাশের শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেক নেমে এসেছে বলে জানা যায়। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় জেলার পাঁচদোনা সাকোরার মোড়ে অবস্থিত জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এ। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক মেশিন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ (অর্ডার) থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম সৌরভ জানান , গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এর জিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম গনমামাধ্যম কে জানান,  আমাদের
কারখানায় পর্যাপ্ত অর্ডার রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কখনো খুব কম সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সময় মতো পণ্য না পৌঁছানোয় কিছু ক্রেতা ইতোমধ্যে অন্য দেশে অর্ডার দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলেপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলো উপর। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় পাম্পে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজিতে  যাএীদের নিকট থেকে বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
শিল্প উদ্যোক্তারা অবিলম্বে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারেরজরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পখাতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Share this news as a Photo Card